দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্কদের বিপক্ষে লড়াইয়ে অন্যতম ভরসা ছিলেন গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা। তবে সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল টাইগাররা। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তরুণ এই পেসার। শুধু নাহিদই নন, শরিফুল ইসলাম, লিটন কুমার দাসকে নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এ ছাড়া চোট থেকে এখনও সেরে ওঠেননি তানজিম হাসান সাকিব ও মোস্তাফিজুর রহমান। এই দুজনের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে বহু প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের চোট ও পুনর্বাসন নিয়ে সর্বশেষ মেডিকেল হালনাগাদ প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ এসেছে নাহিদ রানাকে ঘিরে। গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন বাঁ পায়ের পেশিতে (সাইড স্ট্রেইন) চোট পান তিনি। পরবর্তী স্ক্যানে তার গ্রেড-২ ইনজুরি ধরা পড়ে। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই চোট সারতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে বোলিংয়ে ফিরতে আরও ২ থেকে ৪ সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে নাহিদের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পাওয়া শরিফুল ইসলামের পুনর্বাসন ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে তিনি বোলিং শুরু করবেন। ১২ আগস্ট তার ফিটনেস পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা কম থাকলেও, পুনর্বাসনের সব ধাপ সফলভাবে শেষ করে মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরতে পারেন বাঁহাতি এই পেসার।
চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে রয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাসও। বাঁ পায়ের কাফের সমস্যার চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি গ্রহণ করেছেন। ২৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দৌড় ও ফিটনেস অনুশীলন শুরু করবেন লিটন। ১৩ আগস্ট তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ হলে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে চোটের কারণে দীর্ঘ পুনর্বাসন চালিয়ে যাচ্ছেন তানজিম হাসান সাকিব। সর্বশেষ স্ক্যান এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞের মতামত অনুযায়ী আপাতত তাকে পুনর্বাসনেই থাকতে হবে। আরও ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ পর নতুন করে স্ক্যান করা হবে। হাড়ের চোট কতটা সেরেছে, তার ওপরই মাঠে ফেরার সময় নির্ভর করবে। বিসিবির আশা, বছরের শেষ দিকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন তিনি।
পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোট থেকে সেরে উঠতে নিয়মিত পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জুলাইয়ের শেষ দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৮ আগস্টের পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন মোস্তাফিজ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। তবে সিরিজ শুরুর আগেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট বাংলাদেশের প্রস্তুতিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে