নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য সরকার কখনও কোনো চেষ্টা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
রোববার (২৬ জুলাই) এনডিটিভি বিজনেস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ এনডিটিভির সম্পাদক-প্রধান রাহুল কানওয়ালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সরকার আন্দোলনের গুরুত্ব অস্বীকার করেনি উল্লেখ করে নির্মলা সীতারামন বলেন, আমি তরুণদের উদ্যমকে খাটো করছি না। তবে প্রতিটি প্রজন্মের তরুণরাই বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে অংশ নেয়।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) সাবেক শিক্ষার্থী সীতারামন বলেন, তরুণরা অন্যায় বা আদর্শবিরোধী কোনো ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে এবং পরিবর্তন আনার জন্য আন্দোলনে নামে।
তিনি বলেন, তারা চায় সঠিক, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা বিশ্বাস করে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এটাই তরুণদের চেতনা এবং আমি সেটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি।
মাসব্যাপী শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে সরকার কী শিক্ষা নিয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা এবং তাদের উদ্বেগের যথাযথ জবাব দেওয়া।
তিনি বলেন, আমাদের সবসময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে হবে, যাতে আমরা বুঝতে পারি কী ঘটছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারি।
সরকার আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে বলেও দাবি করেন নির্মলা সীতারামন। তার ভাষায়, প্রতিবাদকে সম্মান দিন। আমরা তাদের আন্দোলন করতে বাধা দিইনি। প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। কোনো সময়ই আমরা আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সরকার দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করে, যাতে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।
সীতারামন বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা, যাতে শিক্ষার্থীদের এক বছরের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। পুনঃপরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, যদি সময়মতো পুনঃপরীক্ষা না হতো, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থারই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হতো। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই সেই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে টানা এক মাসের বেশি সময় আন্দোলন চলে। আন্দোলনের প্রধান দাবির একটি ছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবার তিনি পদত্যাগ করার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ