ধন-সম্পদে বরকত হয় যেভাবে

কাওসার আহমাদ

ইসলাম

আল্লাহ জাকাতের মধ্যে রেখেছেন বরকত। যে জাকাত দেয় তার পার্থিব জীবনে মেলে বরকত, পরকালীন জীবনে মিলবে সওয়াব। ইসলামের অন্যতম মৌলিক

2026-07-27T13:45:51+00:00
2026-07-27T13:45:51+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
ধন-সম্পদে বরকত হয় যেভাবে
কাওসার আহমাদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আল্লাহ জাকাতের মধ্যে রেখেছেন বরকত। যে জাকাত দেয় তার পার্থিব জীবনে মেলে বরকত, পরকালীন জীবনে মিলবে সওয়াব। ইসলামের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি জাকাত। পবিত্র কুরআনে বহু জায়গায় নামাজ কায়েমের সঙ্গে সঙ্গে জাকাত আদায়ের আদেশ করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো’ (সুরা বাকারা : ৮৩)। 

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন,‘ইসলামের মৌলিক ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর- ১. ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’ এই সাক্ষ্য দেওয়া। ২. নামাজ কায়েম করা। ৩. জাকাত প্রদান করা। ৪. হজ করা। ৫. রমজানের রোজা রাখা’ (বুখারি : ৮)। 

প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন মুসলমান নেসাব পরিমাণ অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমপরিমাণ অর্থের মালিক হলে এবং এই নেসাব এক বছর স্থায়ী হলে ৪০ ভাগের এক ভাগ তথা শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে সমুদয় সম্পদের জাকাত ফরজ হয়। কুরআনে বর্ণিত আটটি খাতে জাকাতের অর্থ প্রদান করতে হয়। জাকাত আদায়ে পরকালীন জীবনে রয়েছে অশেষ সওয়াব আর পার্থিব জীবনে রয়েছে নানাবিধ উপকার ও বরকত- 

১. জাকাত প্রদান করলে জাকাতদাতার অন্তর ও সম্পদ পবিত্র হয়। দুনিয়ার লোভ, অর্থের মোহ থেকে অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়। ৪০ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিলে বাকি ৩৯ ভাগ সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। যেমনটি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি তাদের সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করুন, যা দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন’ (সুরা তাওবা : ১০৩)। তাফসিরবিদদের মতে আয়াতের ‘তুযাককিহিম বিহা’ শব্দের অর্থ তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। হাদিসেও জাকাতকে মালের ময়লা বলা হয়েছে। অতএব জাকাত প্রদান করলেই কেবল সম্পদ পবিত্র হয়। 

২. জাকাত দেওয়ার দ্বারা অর্থনৈতিক জীবনে বরকত হয়। সম্পদ বেড়ে যায়। বাহ্যত মনে হতে পারে যে, জাকাত দিলে তো সম্পদের একটি অংশ কমে গেল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। জাকাত সম্পদ কমায় না, বরং সমৃদ্ধি পায়, বরকত আনে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সুদকে মিটিয়ে দেন এবং জাকাত, দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন’ (সুরা বাকারা : ২৭৬)। জাকাত দিলে সম্পদ বাড়বে এটিই আল্লাহর ওয়াদা। 

৩. জাকাত আদায়ের মাধ্যমে অনিষ্টতা দূর হয়। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘যে তার মালের জাকাত দিল, সে মালের অনিষ্টতা থেকে বাঁচল’ (সহিহুত তারগিব : ৭৪৩)। 

৪. নিয়মিত জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। জাকাত দেওয়া আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ নিজ হুকুম পালনকারী বান্দাকে পছন্দ করেন। ভালোবাসেন। আর হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, ফেরেশতাদের মধ্যে, আসমানবাসীদের মধ্যে এমনকি পৃথিবীবাসীর মধ্যেও তার ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে দেন।’ (বুখারি : ৩২০৯)।

আমাদের সামাজিক কাঠামোতেও দেখা যায়, যারা গরিবদের জাকাত দেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ডোনেশন করেন, তাদের প্রতি কোমল স্বচ্ছ মানসিকতা তৈরি হয়। মানুষ তাদের ভালোবাসে। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত সামাজিক মান-মর্যাদা বৃদ্ধিকে টার্গেট করে জাকাত দেওয়া যাবে না। এমন জাকাতদাতার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির ধমক। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জাকাত আদায় করলে এমনিতেই মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। 
পক্ষান্তরে জাকাত না দেওয়ার রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। পার্থিব জীবনে তার সম্পদ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে বরকত এবং পরকালেও সম্মুখীন হতে হবে কঠিন শাস্তির। 


এক হাদিসে এসেছে, যারা সম্পদের জাকাত আদায় করে না, তাদের সম্পদকে কেয়ামতের দিন বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে দেওয়া হবে। যেই সাপের চোখের ওপর দুটি কালো দাগ থাকবে। (এ রকম সাপ ভয়ংকর হয়ে থাকে) এবং (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথা টাক হবে। সেই সাপ তাকে দংশন করবে আর বলতে থাকবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ।’ (বুখারি : ১৪০৩)।

পবিত্র কুরআনে এসেছে, যে স্বর্ণ-রুপা জমা করে রাখে (জাকাত দেয় না) আল্লাহর রাস্তায় তা খরচ করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। সেদিন সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপাল পার্শ ও পিঠে তাপ দেওয়া হবে আর বলা হবে, এই হলো তা, যা তোমরা তোমাদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ আস্বাদন করো’ (সুরা তাওবা : ৩৪-৩৫)। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের এক ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিল কারুন। তাকে তিনি প্রচুর সম্পদ দিয়েছিলেন, যার চাবি এক দল শক্তিশালী লোকের জন্য বহন করা দুঃসাধ্য ছিল।

কারুনকে এ সম্পদের একটি অংশ দ্বারা সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কারুন এ সম্পদ আল্লাহর হুকুম মতো ব্যয় না করে গর্ব করেছিল। বলেছিল, এগুলো আমার জ্ঞান ও যোগ্যতা বলে আমি অর্জন করেছি। তার গর্ব ও অহংকারের কারণে তাকে তার সম্পদসহ মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে (সুরা কাসাস : ৭৬-৮৩)। 

মহান আল্লাহ মুসলিম বিত্তশালীদেরকে সম্পদের জাকাত আদায় করার তওফিক দিন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন  



  বিষয়:   ধন-সম্পদ  বরকত  কাওসার আহমাদ 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: