অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরুর আগেই একের পর এক চোটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল। ইতিমধ্যে প্রথম টেস্টের জন্য নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসকে হারিয়েছে টাইগাররা। এর মধ্যেই চিকিৎসা ও শারীরিক মূল্যায়নের জন্য মঙ্গলবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন দুই পেসার নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ। তাদের সঙ্গে যাচ্ছেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়জিদুল ইসলাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নাহিদের এই সফর সাম্প্রতিক সাইড স্ট্রেইনের চিকিৎসার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো শিনবোনের (পায়ের সামনের হাড়) সমস্যার বিস্তারিত মূল্যায়ন করতেই তাকে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে তাসকিন যোগ দেবেন দলের সঙ্গে।
বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নাহিদ রানা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দুই পায়ের শিনবোনে ব্যথা নিয়ে খেলছে। এতদিন সে বিষয়টি ম্যানেজ করেই খেলেছে। আগেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সুযোগ পেলে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডে গিয়ে একজন লোয়ার-লিম্ব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বসে বিষয়টি মূল্যায়ন করানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে। এটি সাইড স্ট্রেইনের জন্য নয়। কারণ শিনবোনের ব্যথাটি তার দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) সমস্যা।’
চলতি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাঁ পাশের পেশিতে (সাইড স্ট্রেইন) চোট পান নাহিদ। পরে স্ক্যানে গ্রেড-২ চোট ধরা পড়ায় অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই ছিটকে যান এই ডানহাতি পেসার। অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ প্রথম টেস্টের দলে থাকলেও তিনিও যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। তবে সেটি কাঁধের চোটের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো গোড়ালির সমস্যার আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য।
বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাসকিন তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে গোড়ালিতে চোট পেয়েছে। আমরা তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আরও একটি বিশেষজ্ঞ মতামত নিতে চাই। সে কারণেই তার এই সফর।’ সোমবার অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার স্বীকার করেছিলেন, একের পর এক চোটের কারণে ১৫ সদস্যের দল চূড়ান্ত করাটা ছিল বেশ কঠিন।
নাহিদের পাশাপাশি প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না শরিফুল ইসলামও। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে উঠলেও তাকে আরও সময় দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কাফের চোটের কারণে প্রথম টেস্টের বাইরে রয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাস।
তবে চোটের ধাক্কায় পরিকল্পনা বদলে যায় বলে জানান প্রধান নির্বাচক, ‘বিশেষ করে একের পর এক ইনজুরির কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। আশা ছিল অন্তত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হয়তো একটি টেস্ট হলেও খেলতে পারবে। কিন্তু খেলাধুলায় সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু হয় না। সফরের আগে যে পরিকল্পনা থাকে, বাস্তবে অনেক সময় তা বদলে যায়।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি