ভোটের আগেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ জরুরি

সম্পাদকীয়

মতামত

আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার

2026-07-29T06:07:23+00:00
2026-07-29T06:07:23+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ভোটের আগেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। 

চব্বিশের পাঁচ আগস্টের পর লুট হওয়া বিপুলসংখ্যক অস্ত্রের একটি অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। সে সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া শত শত আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এসব অস্ত্র আর আসামি।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বিভিন্ন থানার অস্ত্রাগার থেকে লুট হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র। যার মধ্যে এখনও ১ হাজার ৩২৮টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে লুট হওয়া ৬ লাখ ৫২ হাজারের বেশি গোলাবারুদেরও একটি অংশ উদ্ধার করা যায়নি। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৩২ বন্দির মধ্যে এখনও ৭১৩ জন ফেরারি। 

জামিনে মুক্তি পাওয়া বা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠা কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর উপস্থিতির কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৫৮ জন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশও পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কথা বলেছে। এখন দরকার দৃশ্যমান প্রস্তুতি ও মাঠে তার বাস্তবায়ন।

স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে অর্থ আর অস্ত্রের অপব্যবহার করে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে, চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাদের অপতৎপরতায় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হলে সেটা প্রকারান্তরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। অনেকে হতাহত হয়েছেন। এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে সংঘাত-সংঘর্ষ কমতে পারে বলে অনেকে আশা করছেন। এই আশা অমূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব তাতে কমে না।

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব ব্যাপক। ভোটের আগে নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করাও দায়িত্বের অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পলাতক আসামি গ্রেফতার এবং পরিচিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। 

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকাংশেই স্থানীয় ও ব্যক্তিনির্ভর। যা প্রায়ই প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে রূপ নেয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে, কিন্তু সেটিকেই যথেষ্ট ধরে নেওয়া যাবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে কারা অধিদফতর, পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। প্রতিটি জেলার ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। যেসব এলাকায় সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে সেখানে নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। 

নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীদের অর্থ ও পেশিশক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত উসকে দেয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে, আবার দুর্বলও করতে পারে। কেবল ভোটের দিন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই যথেষ্ট নয়। ভোটের আগে-পরেও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। এ জন্য অবৈধ বা লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি। পলাতক অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। মোটকথা এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে বুলেট নয়, ব্যালটই হবে নির্বাচনের মূল নিয়ামক।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   স্থানীয় সরকার  নির্বাচন  ভোট  ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ  জরুরি 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: