লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একই স্থান ও একই সীমানাপ্রাচীরের ভেতর চলছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চর লরেন্স ইউনিয়নের সাবেক এম সিরাজুল ইসলামের বাড়ির সামনে অবস্থিত এ দুই প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী মাত্র ২৮৬ জন। পার্শ্ববর্তী চর কাদিরা ইউনিয়নের ডাক্তার পাড়া এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিশু। এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল ও এলাকাবাসী দুটি স্কুলের যেকোনো একটিকে স্থানান্তরের জোরাল দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘চর লরেন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এ বর্তমানে শিক্ষার্থী ১৩২ জন এবং শিক্ষক ৪ জন। একই বাউন্ডারিতে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘চর লরেন্স শহিদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। সেখানে শিক্ষার্থী ১৫৪ জন এবং শিক্ষক আছেন ৫ জন। একই স্থানে দুটি বিদ্যালয় চলায় প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিপরীত চিত্রে, চর কাদিরার ডাক্তার পাড়া এলাকায় পাকা দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র ও কিল্লা থাকলেও দুই কিলোমিটারের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সেখানকার শিশুরা চরম ঝুঁকিতে দূরে পড়তে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কিংবা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, একই সীমানায় থাকা দুই প্রতিষ্ঠানের যেকোনো একটিকে চর কাদিরার ডাক্তার পাড়া এলাকার দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হলে উভয় অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য আসবে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রান্তিক সাহা জানান, কিল্লা ও সংশ্লিষ্ট গ্রামে বিদ্যালয় না থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিশুদের পড়ালেখার সুযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সময়ের আলো/জোই