মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিও দেখে হামলার নকশা আঁকে ইরান, জমা নিতে পারে ফোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার ওই অঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মোবাইল ফোনের ভিডিও ইরানকে মার্কিন

2026-07-29T20:42:41+00:00
2026-07-29T20:42:41+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রয়টার্স এক্সক্লুসিভ
মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিও দেখে হামলার নকশা আঁকে ইরান, জমা নিতে পারে ফোন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম 
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার ওই অঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মোবাইল ফোনের ভিডিও ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সহায়তা করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে শিগগিরই তাদের মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। 

মোবাইল যোগাযোগের ওপর এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে, তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত হাজারো মার্কিন সেনার জন্য নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করবে। কারণ তাদের অনেকেই এখনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজেদের নিরাপদ থাকার খবর জানানোর জন্য নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠিতে বলেছেন, ইরান সংবাদ প্রতিবেদন ও অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি, ভিডিও ও প্রতিক্রিয়া দেখে তাদের হামলার ফলাফল সম্পর্কে প্রায় তাৎক্ষণিক ধারণা পেয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্সের হাতে পাওয়া ২৮ জুলাইয়ের ওই চিঠিতে কুপার লিখেছেন, এই ধরনের উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্যের সরাসরি ও অনিবার্য মূল্য মার্কিন সেনাসদস্য এবং লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির মাধ্যমে পরিমাপ করা যেতে পারে। 

তিনি সেনাদের “অপারেশনাল নিরাপত্তা বা সামরিক গোপনীয়তার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার” আহ্বান জানিয়েছেন। তবে চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেননি।

কুপারের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধের খবর, স্যাটেলাইট ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন তথ্য প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, যাতে ইরান মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে না পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া জর্ডানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ফোন জমা দিতে বলা হবে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। 

তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সামরিক নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে পুরো অঞ্চলে এমন পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফোন জমা নেওয়া নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয় বলেও ওই সূত্র উল্লেখ করেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, এই বার্তাটি মূলত সেনাসদস্যদের সামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অ্যাডমিরাল কুপার এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামরিক অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

 ইরানি হামলার সময়ে প্রকাশিত ভিডিও

চলতি মাসে অনলাইনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ জুলাই জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার সময় মার্কিন এক সেনাসদস্য ভিডিও ধারণ করছেন এবং সেনারা আশ্রয়ের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন।

কুপার তার চিঠিতে ওই ভিডিওর কথাই উল্লেখ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল একটি মেটা স্মার্ট গ্লাসে, যাতে ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল।

তিনি লিখেছেন, একজন সেনাসদস্যের মেটা গ্লাসে ধারণ করা ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ওই ব্যক্তি কোথায় এবং কীভাবে একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। 

কুপারের মতে, মার্কিন বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন কৌশলের কারণে ইরানের পক্ষে সাধারণত তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে তা জানা কঠিন হওয়ার কথা।

তিনি বলেন, ইরান জানে যে অস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে। কিন্তু তাদের বাহিনী জানে না সেগুলো ৫০ মিটার দূরে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে কি না, খালি রানওয়েতে আঘাত করেছে কি না, নাকি সফলভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে। 

তার মতে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের বিস্তারিত তালিকা, বিবরণ ও বিশ্লেষণ কার্যত বিনামূল্যে ইরানের জন্য যুদ্ধক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে দিচ্ছে। 


সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই হতাহতের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে মাত্র তিনজনের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। 

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটির রাডার টাওয়ার, ব্যারাক ও বিমান রাখার স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন তারা। 

এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়ে সামরিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা। 

সেনাদের মোবাইল ফোন কি সত্যিই নেওয়া হবে? 

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোতায়েনরত সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অনেক সেনাকে নির্দিষ্ট স্থানে ফোন সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষ করে বিশেষ বাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিযানে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধও থাকতে পারে।

তবে ফোন জমা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু সেনা পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলার দাবি শুনে আসছেন বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।
 
মার্কিন কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, মোবাইল ডিভাইসের কিছু অ্যাপ্লিকেশন— যেমন ফিটনেস অ্যাপ ব্যবহারকারীর অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিপক্ষের হাতে গেলে তা সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে কাজে লাগতে পারে। 

রয়টার্স মে মাসে জানিয়েছিল, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য মার্কিন বাহিনীকে নজরদারি বা লক্ষ্যবস্তু বানাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

একই সময়ে পেন্টাগনও সামরিক নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ইরানের হামলার দাবি বা মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার পৃথক ঘটনাগুলো নিয়েও তারা অনেক সময় বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। 

অ্যাডমিরাল কুপার সতর্ক করে বলেছেন, হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ ইরানকে পরবর্তী হামলা চালানোর সুযোগ করে দিতে পারে। 

তিনি বলেন, বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত তথ্য ইরানি বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতীয় এবং আরও ভয়াবহ হামলার সবুজ সংকেত হয়ে উঠতে পারে। 



সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   মার্কিন সেনা  ইরান  হামলা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: