অস্ট্রেলিয়ায় সাড়ে ৬ লাখ অস্থায়ী ভিসাধারী কমানোর ঘোষণা বিরোধী জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে চার বছরে দেশটির অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বিরোধী দলীয় জোট (কোয়ালিশন)।

2026-10-07T22:05:07+00:00
2026-10-07T22:05:07+00:00
 
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ায় সাড়ে ৬ লাখ অস্থায়ী ভিসাধারী কমানোর ঘোষণা বিরোধী জোটের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম 
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অভিবাসনবিরোধী ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ সমাবেশে অস্ট্রেলিয়ার পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি : রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে চার বছরে দেশটির অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বিরোধী দলীয় জোট (কোয়ালিশন)। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর নতুন এই অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেন। জোটের দাবি, এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন কমানোর উদ্যোগ। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে প্রথম দুই বছরে নিট অভিবাসন বছরে ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে। তৃতীয় বছরে এই সংখ্যা হবে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার।

২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিট অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ১ হাজার। অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে বর্তমান সংখ্যার তুলনায় অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত নীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের ক্ষেত্রে। পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের সুযোগ দেওয়া অস্থায়ী স্নাতক ভিসা পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে এ ধরনের ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার। নতুন নীতিতে তা কমিয়ে মাত্র ১০ হাজারে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বছরে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সীমা নির্ধারণ করা হবে ২ লাখ ৪০ হাজারে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তাদের জন্য নতুন করে ‘পড়াশোনা-পরবর্তী সাময়িক ভিসা’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য ও বয়স্কসেবা খাতের কর্মীদের ভিসা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসার দ্বিতীয় বা পরবর্তী আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। ফলে দেশটিতে অবস্থান করেই নতুন ভিসার আবেদন করার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ছাড়া অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের ব্রিজিং ভিসা এবং অস্থায়ী আশ্রয় ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। মানবিক ভিসার সংখ্যাও অর্ধেক কমিয়ে ১০ হাজারে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে বিরোধী জোট।

অ্যাঙ্গাস টেইলর অস্ট্রেলিয়াকে ‘হোটেল নয়, বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—অনেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে কিছু সময় সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ উপার্জন করে চলে যান, কিন্তু দেশটির প্রতি দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা বা অঙ্গীকার থাকে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী দল ওয়ান নেশন তিন বছরের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ অস্থায়ী ভিসাধারীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে জনমত জরিপে বিরোধী জোটের চেয়ে এগিয়ে গেছে। সেই চাপ মোকাবিলার লক্ষ্যেই কোয়ালিশন এমন কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার গত মাসে ঘোষণা করেছিল, ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তুলনায় বিরোধী জোটের প্রস্তাব আরও কঠোর।

বিরোধী জোটের এই ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


পশ্চিম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা এক শিক্ষার্থী বলেন, বছরের পর বছর উচ্চ টিউশন ফি দিয়ে পড়াশোনা করার পর স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ এমনিতেই কমে আসছে। এখন কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভিসার সুযোগও কমে গেলে তাদের বিনিয়োগ ও ক্যারিয়ার—দুটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমিউনিটি কর্মী ও ব্যবসায়ী বলেন, আবাসনসংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় রাজনীতিকেরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসী কর্মীদের ওপর চাপাচ্ছেন।

অভিবাসন বিভাগের সাবেক উপসচিব ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আবুল রিজভী বিরোধী জোটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একসঙ্গে কয়েক লাখ ব্রিজিং ভিসার জটিলতা দূর করা অত্যন্ত কঠিন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সেবাখাতে চলমান কর্মী সংকটের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না।

ক্ষমতাসীন সরকারের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই পরিকল্পনাকে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর সতর্কবার্তা, নীতিটি বাস্তবায়ন হলে জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মীর সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

তবে এখনই এই নীতি কার্যকর হচ্ছে না। এটি আপাতত বিরোধী জোটের প্রস্তাব। অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী কেন্দ্রীয় নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে কোয়ালিশন জয়ী হলে তবেই প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।



সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   অস্ট্রেলিয়া  ভিসাধারী  বিরোধী জোট 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: