মহাকাশ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আর্টেমিস চুক্তির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনও এতে যোগ দিতে পারবে বলে জানিয়েছে নাসা। তবে বর্তমানে দুই দেশের অবস্থান চুক্তির নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন নাসার উপপ্রশাসক ম্যাট অ্যান্ডারসন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) তুরস্কের আনতালিয়ায় আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী কংগ্রেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
অ্যান্ডারসন বলেন, কোনো একসময় রাশিয়া ও চীন যদি আর্টেমিস চুক্তির নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে আসে, তাহলে তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে ৭৬টি দেশ আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় মহাকাশে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে চাঁদে গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। কয়েকটি দেশ একই সঙ্গে আর্টেমিস চুক্তি এবং চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন চন্দ্র গবেষণা উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যান্ডারসন বলেন, কোন দেশ কোন মহাকাশ কর্মসূচিতে অংশ নেবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কোনো দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুসরণে বাধা তৈরি হয় না।
মঙ্গলবার চুক্তির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকেও অংশ নেন অ্যান্ডারসন। বৈঠকে মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিয়েও আলোচনা হয়। চাঁদের পৃষ্ঠে জমা হওয়া বর্জ্য নিয়েও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অ্যান্ডারসনের মতে, মহাকাশের আবর্জনা মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নতুন করে মহাকাশবর্জ্য তৈরি না করা।
মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্টেমিস চুক্তির মূল লক্ষ্য বেসামরিক মহাকাশ কর্মকাণ্ড। সামরিক বিষয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার আওতাভুক্ত। তবে মহাকাশে কোনো ধরনের সশস্ত্র সংঘাত কেউই চায় না এবং চুক্তিটির মূল উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণভাবে মহাকাশ অনুসন্ধান করা।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ