খেয়ালখুশি মতো অফিস করেন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর কার্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসা, আগেভাগে চলে যাওয়া এবং কর্মস্থলে প্রায়ই অনুপস্থিত

2026-07-30T20:01:34+00:00
2026-07-30T20:01:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
খেয়ালখুশি মতো অফিস করেন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:০১ পিএম 
দফতরে অনুপস্থিত ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরী। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর কার্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসা, আগেভাগে চলে যাওয়া এবং কর্মস্থলে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে অফিস সময় সকাল ৯টায় শুরু হলেও সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায় না। এতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এবং সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থী ও ঠিকাদারেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা এবং বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তাঁর কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত কার্যালয় কর্মচারীদের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বাইরে আছেন। তবে, তিনি কোথায় আছেন কিংবা কখন কার্যালয়ে আসবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেন নি তারা।

সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী প্রায়ই বেলা ১১টার পর আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেভাগেই অফিস ত্যাগ করেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ফাইলে স্বাক্ষর বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ায় কাজ বিলম্বিত হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম শ্রেণির এক ঠিকাদার বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের দেখা পাওয়া যেন ভাগ্যের বিষয়। যখনই আসি, শুনি তিনি ফিল্ডে অথবা মিটিংয়ে আছেন। কিন্তু সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময়ে তাকে কক্ষে না পাওয়াটা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির এক ঠিকদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, গত মে মাসে একটি ব্রিক সলিং কাজের বিল ছাড়ের জন্য ফাইলটি রেডি করা হয়। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির কারণে স্বাক্ষর হচ্ছে না। আজ হবে তো কাল হবে করতে করতেই দুই মাস চলে গেলো। এভাবে হলে সাধারণ ঠিকাদারগণ ভবিষ্যতে কোনও টেন্ডারেই অংশ নেবেন না।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরী বলেন, অনেকসময় ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে মিটিং এ থাকতে হয়। তাছাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও সরেজমিনে দেখতে হয়। এতে অনেকে সময়মতো হয়তো পায় না। সেবাপেতে কেউ ভোগান্তির শিকার হওয়ার কথা সঠিক নয়। আবার অফিস ফাঁকি বা সময় দেরি হওয়ার বিষয়টিও অবান্তর। কারণ আমি নিয়মিত এখানেই থাকি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। কারণ খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   ফটিকছড়ি  উপজেলা প্রকৌশলী  চট্টগ্রাম  সেবা কার্যক্রম ব্যাহতম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: