প্রতিদিনের ক্লান্তি বা শরীর দুর্বল লাগার পেছনে আমরা সাধারণত অনিদ্রা বা মানসিক চাপকেই দায়ী করে থাকি। তবে এর আড়ালে যে আমাদের ভুল খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখছে, তা অনেকেরই অজানা। কিছু খাবারের ভুল অভ্যাস অজান্তেই শরীর থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি শুষে নেয়। সঠিক সময়ে সচেতন হয়ে খাবারে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ভারতীয় পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘নিউট্রিশন ইন সিঙ্ক’-এর প্রধান পুষ্টিবিদ লক্ষ্মী কালের মতে, মিষ্টি বা অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি মিললেও ৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে উল্টো ক্লান্তি বা ‘এনার্জি ক্র্যাশ’ তৈরি করে। তাই কার্বোহাইড্রেটের সাথে প্রোটিন, ফাইবার বা স্বাস্থ্যকর চর্বি মিশিয়ে খাওয়া উচিত।
অনেকে আবার দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব আসার জন্য দুপুরের খাবারকে দোষ দেন। অথচ এটি মূলত শরীরের প্রাকৃতিক জৈব ঘড়ির (স্লিপ সাইকেল) প্রভাব। এ সময় চর্বিযুক্ত ভারী খাবার না খেয়ে প্রোটিন ও শাকসবজিযুক্ত সুষম খাবার খেলে সারা দিন শক্তির মাত্রা বজায় থাকে।
এ ছাড়া বিকেলের কফি এবং রাতে অ্যালকোহল পানের অভ্যাস ঘুমের মারাত্মক ক্ষতি করে। ঘুমানোর অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে কফি খেলে রাতের ঘুম এক ঘণ্টারও বেশি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে অ্যালকোহল মস্তিষ্ককে নিস্তেজ করলেও গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়, যা পরদিন সকালে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে।
পুষ্টিবিদদের মতে, আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি কিংবা থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো শারীরিক সমস্যার কারণেও প্রতিনিয়ত দুর্বলতা আসতে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও রুটিন পরিবর্তনের কয়েক সপ্তাহ পরও যদি ক্লান্তি না কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সময়ের আলো/জেডি