পাবনায় কুকুরের কামড়ে ২২ জন আহত, শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক

পাবনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

পাবনায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের উৎপাত মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুর সাধারণ মানুষের ওপর

2026-07-31T12:46:56+00:00
2026-07-31T12:46:56+00:00
 
  শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
পাবনায় কুকুরের কামড়ে ২২ জন আহত, শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম 
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
পাবনায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের উৎপাত মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুর সাধারণ মানুষের ওপর আকস্মিক হামলা চালাচ্ছে। দিনের বেলা কিছুটা কম হলেও রাত নামলেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেওয়া এসব কুকুর একা পেলে লোকজনকে ঘিরে ধরে কামড়াচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে পাবনা পৌর এলাকায় কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন অন্তত ২২ জন। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন।

এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে মায়ের কোল থেকে ছোট শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে শিকার হয়। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয়রা ধাওয়া করে শিশুটিকে কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ২২ জনের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।


গত দুই সপ্তাহে পাবনা পৌর এলাকায় শিশুসহ প্রায় বিশজন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাহিদুর রহমান জানান, গত বছর পাবনা সদর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ কুকুর, বিড়াল, শেয়াল ও বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌর ও জেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা আরও জানান, বছরের এই সময়ে কিছু পশু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আইনি জটিলতার কারণে প্রশাসন পশু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে এবং আহতদের সবাইকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাইরে থেকে টিটি ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

শালগাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সরদারপাড়া, হাসপাতাল এলাকা, বাইপাস মোড়, গাছপাড়া, কলেজপাড়া, বড় বাজার এবং মধ্য শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত কুকুর নিধন বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং সমাজকর্মী এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, রাস্তায় বের হলেই কুকুরগুলো তেড়ে আসছে। এলাকায় কুকুরের বংশবৃদ্ধি ব্যাপক হারে বেড়েছে। প্রাণী হত্যার আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যেভাবে কুকুরগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে মানুষের প্রাণহানি এড়াতে পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইনগত সমস্যার কারণে বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বা তাদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে এবং কুকুরে কামড়ালে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   পাবনায  কুকুর  কামড়  আহত  শিশু  আশঙ্কাজনক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: