চট্টগ্রামের পটিয়ায় শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের চাকরি হারানো এবং পরবর্তীতে একই সনদের কারণে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ বাতিল হওয়া মো. জাহাঙ্গীর আলমকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটিয়া পৌরসদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পটিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০২৩ সালে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) পদ থেকে চাকরি হারান। পরবর্তীতে একই সনদ ব্যবহার করে তিনি পটিয়া সদরের আব্দুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেন।
পরে ব্যবহৃত শিক্ষাগত সনদটি জাল প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড তার সভাপতির পদ বাতিল করে দেয়।
এদিকে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সনদ জালিয়াতির ঘটনায় চাকরি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ হারানো একজন ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীও বিষয়টি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (এনসিই) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলাম।
সনদ জালিয়াতির ঘটনায় চাকরি ও সভাপতির পদ হারানো মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ফয়জুল্লাহ বলেন, উনাকে আমরা দাওয়াত করিনি। আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তিনি নিজে থেকেই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি এবং অতিথিদের সঙ্গে অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
সময়ের আলো/আতা