একটি মোবাইল ফোনের অভাবে দীর্ঘ তিন মাস ধরে মায়ের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলেন না ‘নতুন কুঁড়ি’ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালসেরা কিশোরী স্মৃতি কিসকু। রংপুর বিভাগের হয়ে শিরোপা জিতে ট্রফি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরেও তিনি দেখেননি তার মাকে; জীবিকার তাগিদে মা মাতি মাই হেমরন ততদিনে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকায়।
তবে কিসকুর এই আবেগঘন কষ্টের কথা গণমাধ্যমে উঠে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। অবশেষে খোঁজ মেলে নিখোঁজ মায়ের এবং মেটানো হয় কিশোরী ফুটবলারের দীর্ঘদিনের আকুতি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগতভাবে স্মৃতি কিসকুর মায়ের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, স্মৃতি কিসকুর পরিবারকে একটি স্থায়ী অবকাঠামোগত ভিত্তি দিতে এবং আর্থিক সংকট চিরতরে দূর করতে কিসকুর মাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য একটি নতুন পাকা বাড়িও নির্মাণ করে দেবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামের অত্যন্ত অভাবী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন স্মৃতি। বাবা সোবহান হাসদারের মৃত্যুর পর অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে অত্যন্ত কষ্টে সংসার ও মেয়ের খেলাধুলার খরচ চালিয়ে আসছিলেন মাতি মাই হেমরন। নিজের কাছে ফোন না থাকায় অন্যের মোবাইলে মেয়ের খেলার খবর দেখতে পেলেও নিজের কষ্টের কথা ভেবে কাউকে পরিচয় পর্যন্ত দিতে পারতেন না এই সংগ্রামী মা। আজ হাতে নতুন ফোন, সাথে চাকরি ও বাড়ির আশ্বাস পেয়ে কান্নাভেজা চোখে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে খেলাধুলার তৃণমূল প্রসারে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরের একটি বিশেষ বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত ক্রীড়াবিদ তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জেডি