২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। নিজের জায়গা ধরে রাখতে ফিফার নিয়ম বদলেছেন বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাই ক্ষেপেছে ইউরোপিয়ান ৫৫ ফুটবল ফেডারেশন। তারা একজোট হয়েই ইনফান্তিনোর বিপক্ষে। এমনকি ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। এমন অবস্থায় ইনফান্তিনোর বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে ইউরোপীয় ফেডারেশনগুলো। বর্তমান ফিফা প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে কে দাঁড়াবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন ফুটবলের পরিচিত পাঁচ মুখ।
আলেক্সান্ডার চেফেরিন
সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী নাম উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার চেফেরিনের। ফিফার সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তার মতপার্থক্য বহুদিনের। বিশ্বফুটবলে ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্তেরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি সর্বশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উপস্থিত ছিলেন না চেফেরিন। ২০১৬ সাল থেকে উয়েফার দায়িত্বে থাকা এই স্লোভেনিয়ান অবশ্য নিজের বর্তমান পদেই স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রয়োজন হলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন তিনি।
নাসের আল-খেলাইফি
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে তার প্রতিনিধির দাবি, ফিফা সভাপতির পদে যাওয়ার কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই আল-খেলাইফির। তারপরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আর্সেন ওয়েঙ্গার
সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার বর্তমানে ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান। ফুটবল প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। এতদিন ইনফান্তিনোর পক্ষেই কাজ করেছেন তিনি। তবে পরিস্থিতি বদলালে ফিফার ভেতর থেকেই সভাপতি পদে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো প্রভাব ও পরিচিতি তার রয়েছে।
ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি
কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানির নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। কানাডিয়ান এই ফুটবল প্রশাসক এর আগেও ফিফা সভাপতি হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামী বছর কনকাকাফে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন করে ফিফার শীর্ষ পদে লড়াইয়ে নামার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। বাহরাইনের এই কর্মকর্তা ফিফা কাউন্সিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিশ্বকাপ ও ফিফার সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকদের কাতারেও তাকে দেখা গেছে। আগামী বছর এএফসি নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ফিফা নির্বাচন— দুই দিকেই নজর রাখতে হবে তাকে।
ইনফান্তিনোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে নিয়ম পরিবর্তন করে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করেছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তিনি ফিফার শীর্ষ পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকবেন। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে শুধু শক্তিশালী প্রার্থীই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হবে ফিফার সদস্য দেশগুলোর বড় ধরনের সমর্থন। তাই আগামী কয়েক মাসে ফুটবল রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/আআ