আরবি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিগত হজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৭ সালের হজের জন্য আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে সৌদি আরব। লাখ লাখ হাজির সেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা এড়াতে জোরদার করা হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার সমন্বয়। সেই সঙ্গে সব দেশকে সৌদি আরব হজের আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়ে একটি রোডম্যাপ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ সেই রোডম্যাপ ধরে পবিত্র হজের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হজে বিলম্ব নয়, সামর্থ্য হলেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিন। অর্থাৎ আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য অর্জিত হলে হজ পালনে বিলম্ব করা উচিত নয়। অজুহাত বা গাফিলতির কারণে হজে বিলম্ব করা ঠিক নয়। কারণ মানুষের ব্যস্ততা যেমন বাড়তে থাকে, তেমনি শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতাও সবসময় একরকম থাকে না। হজ আদায়ের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং জীবনে বরকত বৃদ্ধি পায়। হজ মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং ইবাদতের প্রতি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এমনকি হজের প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই একজন মানুষ আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যান।
তাই এবার যারা হজে যেতে চান, তাদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা দরকার। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হজের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৭ সালের হজ পালনে আগ্রহীদের নিবন্ধনে ভোগান্তি ও দালালদের হয়রানি কমাতে তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলা চলছে। মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় ও নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এ মেলা চলবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাস্থল খোলা থাকছে। কোনো প্রবেশ ফি নেই, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত মেলা। এতে দেড় শতাধিক এজেন্সি বিভিন্ন অফার নিয়ে মেলায় স্টল দিয়েছে। হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সেতুবন্ধ রচনা করতেই এই মেলা।
হজ একটি ফরজ ইবাদত। পবিত্র কাবাগৃহকে কেন্দ্র করে মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে সামর্থ্যবান সচ্ছল মুসলমান হৃদয়পূর্ণ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আবেগজড়িত চিত্তে মক্কায় উপস্থিত হন এবং হজের আহকামগুলো সম্পাদন করেন। তাই এ মহৎ কাজে বের হওয়ার প্রাক্কালে বায়তুল্লাহর মেহমানদের কিছু আবশ্যকীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। হজ মেলা হলো পবিত্র হজ পালনেচ্ছুকদের সেই সহায়তা কেন্দ্র।
এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হজযাত্রীদের সঙ্গে সরকার নিবন্ধিত এজেন্সির যোগসূত্র তৈরি করা। হজে আগ্রহীরা এজেন্সি থেকে পছন্দের প্যাকেজ নিয়ে ২০২৭ সালের হজ প্রতারণা ও হয়রানি মুক্তভাবে পালন করতে পারেন। মেলায় আগতরা বিভিন্ন হজ এজেন্সির প্যাকেজ ও প্রদত্ত সুবিধাদি যাচাই, মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব ছাড়াই সরাসরি বুকিং বা চুক্তি করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা সম্পর্কেও হজে গমনেচ্ছুরা তথ্য পাবেন।
পরিশুদ্ধ নিয়তের পর আপনার প্রাথমিক প্রস্তুতি দরকার। হজে গমনকারী প্রথমত প্রাক-নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ভিসা কার্যক্রম, মেডিকেল চেকআপ, টিকা গ্রহণসহ প্রভৃতি কাজ সম্পন্ন করবেন। এ ছাড়া হজে গমনের আগে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর দরকার হজ সফরের পাথেয় সংগ্রহ করা। হজের সফরকালে প্রায় ৪০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সঙ্গে রাখতে হবে। আবার এটাও খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত জিনিসপত্র নিতে গিয়ে যাতে সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
হজে আর্থিক ব্যয়ের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ক্ষেত্রে বেশ অর্থের দরকার পড়ে। সুতরাং পূর্বপ্রস্তুতি থাকা অত্যাবশ্যক। সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী এজেন্সির মাধ্যমে সব বিষয়ে অবগত হবেন ও একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। হজের নিয়মকানুন জেনে নেওয়া জরুরি। হজ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট মাসআলা-মাসায়েল ভালোভাবে বুঝে নেবেন। উল্লিখিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয়তা মাথায় রাখলে হজ পালনকালে তেমন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না ইনশাআল্লাহ।
সহ-সভাপতি, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও আহ্বায়ক, হজ মেলা বাস্তবায়ন কমিটি
সময়ের আলো/আআ