মাঠের দল হতে চায় এনসিপি

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাঠের রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গ বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। নির্বাচন-উত্তর

2026-08-01T00:55:52+00:00
2026-08-01T00:55:52+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
কুসুম-কুসুম বিরোধিতা জামায়াতের
মাঠের দল হতে চায় এনসিপি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাঠের রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গ বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। নির্বাচন-উত্তর সময়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। এনসিপির নেতাদের ধারণা, নানা কারণে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারবে না। বিশেষ করে বিএনপি সরকারের গত মাসে সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা ছিল ‘কুসুম-কুসুম’।

এনসিপি বলছে, তারা সেই পথে হাঁটবে না। ধীরে ধীরে দেশের সব জেলায় সাংগঠনিক বিস্তৃতি ঘটিয়ে গণভোট ও সংস্কার প্রশ্নে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জোরালো করা হবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে সরকারি দল বিএনপি ও সংসদে থাকা এনসিপির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার রাজনীতির জেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হন বলে অভিযোগ এনসিপির।

এসব ঘটনায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারিসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়ী করে এনসিপি। এর প্রতিবাদে সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলটি।

এনসিপির নেতাদের দাবি, দেড় বছরে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ছোট-বড় অন্তত ১৮টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দলটির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে। একজনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনার পর বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল কয়েকজন আঞ্চলিক নেতাকে বহিষ্কার করেছে।

তবে শরিক দলের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় জোটের প্রধান ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করছে না বলে অভিযোগ এনসিপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের। বড় কোনো প্রতিবাদও দেখা যায়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তুষার সময়ের আলোকে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ক্ষমতার সঙ্গে থেকেই অভ্যস্ত। এ জন্য তাদের প্রধান বিরোধী দল হতে বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্তু এনসিপি শুরু থেকে এন্টি-এস্টাবলিশমেন্টের রাজনীতি করে আসছে। আমরা আমাদের রাজনৈতিক কাজ করে যাচ্ছি। আপাতত সাংগঠনিক বিস্তৃতি আমাদের মূল লক্ষ্য।’

জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মতে, দেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ে কারা খুব শক্তভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে, তা বলতে গেলে তীক্ষè ও ধারালো বিরোধিতা করেছে এনসিপি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও সেই অর্থে প্রতিবাদ হয়নি। সংসদে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামী সরকারের কুসুম-কুসুম বিরোধিতা করছে।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন বিএনপি নানা ক্ষেত্রে জামায়াতকে সুবিধা দিচ্ছে। প্রশাসনিক ও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে জামায়াতের এমপিদের রাখা হচ্ছে। বিরোধী দলের এমপিদেরও সরকারি দলের মতো সমান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

‘কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা ছিল না’
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির পদযাত্রায় হামলার পেছনে বিএনপির কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনা কিংবা বার্তা ছিল না। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এনসিপির গুটিকয়েক নেতার উসকানিমূলক ও তির্যক বক্তব্যে ফুঁসে উঠছেন। কোথাও কোথাও পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও ঘটছে।

তবে সরকার এসব ঘটনায় বিশেষ নজর রাখছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং এসব ঘটনার আড়ালে তৃতীয় পক্ষ যাতে কোনো সুবিধা নিতে না পারে, সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির সমন্বয়করা গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এরপর থেকেই থেমে থেমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

উল্লেখযোগ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে। ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে নোয়াখালীর হাতিয়ায়, ৬ জুলাই সাভারে জুলাই পদযাত্রা শেষে সমাবেশে ককটেল হামলা এবং ১৯ জুলাই ফের হাতিয়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। সবশেষ মঙ্গলবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে হবিগঞ্জ।

জোটে ভাঙনের আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের আভাস মিলছে। কয়েক দিন আগে জোট ছেড়েছে খেলাফত মজলিস। এবার জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে।

জামায়াত জোট ছাড়ার প্রশ্নে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জুলাইয়ের বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে এখন পর্যন্ত জোটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই মুহূর্তে জোট ছাড়লে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।’

তুষার বলেন, সরকার আমাদের বাড়তি কোনো সুবিধা দেয়নি। এনসিপিও ভোটে জিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলব না কিংবা প্রতিবাদ করব না- এমন কোনো চুক্তি তো হয়নি।

তবে এনসিপির নেতারা বলছেন, তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তাদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই সুযোগ সীমিত। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   কুসুম-কুসুম  বিরোধিতা  জামায়াত  মাঠ  দল  এনসিপি 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: