নিরস্ত্র হতে রাজি হামাস, গাজার সামনে কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ধাপে

2026-08-01T01:12:13+00:00
2026-08-01T01:12:13+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নিরস্ত্র হতে রাজি হামাস, গাজার সামনে কী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ এএম 
ইসরাইলি হামলায় গাজায় অক্ষত নেই একটিও মসজিদ। তবু শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত মসজিদ এলাকায় জড়ো হন ফিলিস্তিনি মুসলিমরা। ছবি : আনাদুলু
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ধাপে ধাপে হামাসসহ গাজার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ হবে। এরপর গাজার শাসনভার যাবে একটি ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের হাতে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। হামাসের একটি সূত্র একে ‘খসড়া চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, প্রস্তাবটি গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তাদের দাবি পূরণ করছে না। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক কর্মকর্তাও বলেছেন, চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে যে খবর আসছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। এই মতপার্থক্যের মধ্যেই সামনে এসেছে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ থেকে শুরু করে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার, নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী গঠন, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং গাজা পুনর্গঠনের একটি বিস্তৃত রূপরেখা। 

রয়টার্স, দ্য টাইমস অব ইসরাইল ও আলজাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা যাক, প্রস্তাবিত এই প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং এর বাস্তবায়ন হলে গাজার শাসন ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসতে পারে।

দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী হামাস নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখায় সম্মতি দেওয়ার পর ১৪ দিনের একটি প্রাথমিক সময়সীমা শুরু হবে। এই সময়ের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা। বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। 

রয়টার্সকে এক কর্মকর্তা অবশ্য ২০০ থেকে ৩২০ দিনের সম্ভাব্য সময়সীমার কথা জানিয়েছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে প্রতিটি ধাপের শর্ত পূরণ হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ১৪ দিনের প্রাথমিক পর্ব শেষে হামাস ও গাজার অন্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে বলে দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী হামাস সরাসরি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র জমা দেবে না। রয়টার্সকে হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারী অস্ত্র সংরক্ষণ করে একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা রয়েছে খসড়া সমঝোতায়। এসব অস্ত্র ইসরাইলের হাতে দেওয়া যাবে না। 

হামাসের আলোচক গাজি হামাদ আলজাজিরাকে বলেছেন, গাজা থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহারের আগে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তারা কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। তার ভাষ্য, অস্ত্র ও নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি।

দ্য টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সব অস্ত্র একসঙ্গে জমা দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া এগোবে। প্রথমে হামাসের পুলিশ বাহিনীর হাতে থাকা অস্ত্র নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় থাকা অস্ত্রের মজুদ ও টানেল ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলবে।

সবশেষে আসবে ব্যক্তিগত বা হালকা অস্ত্রের বিষয়টি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শর্তে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার সুযোগ রয়েছে। ফলে এসব অস্ত্রের ক্ষেত্রে সেই আইন অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। শুধু হামাস নয়, গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী-সমর্থিত মিলিশিয়া ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও তাদের অস্ত্র জমা দিতে হবে।

নিরস্ত্রীকরণের মূলনীতি হবে একটি কর্তৃপক্ষ, একটি আইন ও একটি বৈধ অস্ত্রব্যবস্থা। অর্থাৎ গাজার বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি কোনো গোষ্ঠীর আলাদা সশস্ত্র কাঠামো থাকার সুযোগ রাখা হবে না। রয়টার্সকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, পরিকল্পনার আওতায় শুধু অস্ত্র জমা দেওয়াই নয়, গাজার টানেল, অস্ত্রের মজুদ এবং অস্ত্র উৎপাদনের স্থাপনাও বিলুপ্ত করার কথা রয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়া শেষে গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কোনো সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট থাকবে না, এটাই পরিকল্পনার লক্ষ্য। তবে এই নিরস্ত্রীকরণ একতরফা হবে না। এর প্রতিটি ধাপ ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর গাজা থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার।

দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, প্রথমে ইসরাইলকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত মূল ‘ইয়েলো লাইন’-এ ফিরে যেতে হবে। ওই সীমারেখা অনুযায়ী গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসরাইল তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়িয়ে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হামাস অস্ত্র হস্তান্তর শুরু করার আগে ইসরাইলকে মূল ইয়েলো লাইনের বাইরে থেকে আরও পিছু হটতে হবে না। অর্থাৎ হামাস যত ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে, ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারও তত ধাপে এগোবে। এই প্রক্রিয়া যাচাই করবে একটি স্বাধীন ‘ইমপ্লিমেন্টেশন ভেরিফিকেশন কমিটি’ বা আইভিসি। একটি ধাপের শর্ত পূরণ হয়েছে বলে আইভিসি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ, সেনা প্রত্যাহার কিংবা পুনর্গঠনের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে না।

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে সঙ্গে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য গঠন করা হবে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি। এটি হবে রাজনীতির বাইরে থাকা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র‍্যাটদের একটি কমিটি। এতে হামাসের কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না।

দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ইসরাইল ও হামাস ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলছে বলে যাচাই হওয়ার পর এনসিএজি ধীরে ধীরে গাজায় দায়িত্ব নিতে শুরু করবে। হামাসের প্রশাসনের অধীনে যারা বেসামরিক চাকরি করতেন, তাদের সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়। নতুন প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগ করবে, আবার হামাস প্রশাসনে কর্মরত কাউকে বাদ দিতে বা অন্য দায়িত্বে স্থানান্তর করতে পারবে।

আলজাজিরাকে হামাসের জ্যেষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের সময় যারা চাকরি হারাবেন বা অবসরে যাবেন, তারা ফিলিস্তিনি আইন অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। এনসিএজি গাজার আর্থিক ও প্রশাসনিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষাও করবে। সরবরাহকারী ও ঠিকাদারদের বৈধ পাওনা যাচাই করে তিন বছরে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার পর্যন্ত দায় পরিশোধের চেষ্টা করবে বলে হামাসের ওই সূত্র জানিয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র কাঠামো সরিয়ে নেওয়া হলে গাজায় নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে। সেটি ঠেকাতে দুটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর কথা রয়েছে, একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী এবং অন্যটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আইএসএফ হবে বিভিন্ন দেশের সদস্য নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক বাহিনী।

দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে পাঁচ হাজার সেনাসদস্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মরক্কো, কসোভো, আলবেনিয়া ও কাজাখস্তানের অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি ইসরাইলে পৌঁছেছেন। আইএসএফের কাজ হবে নতুন গাজা পুলিশকে প্রশিক্ষণে সহায়তা করা, অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা এবং ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের সময় তাদের ও ফিলিস্তিনিদের মাঝামাঝি অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে গড়ে তোলা হবে নতুন গাজা পুলিশ বাহিনী। পাঁচ হাজার যাচাইকৃত সদস্যকে এই বাহিনীর জন্য বাছাই করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরাইল। হামাসের বর্তমান পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যও নতুন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন। অন্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন কাজে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও আইন প্রয়োগের মূল দায়িত্ব থাকবে এনসিএজি এবং নতুন পুলিশ বাহিনীর ওপর।

হামাসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী অস্ত্র জমা দেওয়ার পর তাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এ জন্য গাজার সব পক্ষকে একটি ‘সোশ্যাল পিস অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা সামাজিক শান্তি চুক্তিতে সই করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হবে অস্ত্র সমর্পণের পর কোনো গোষ্ঠী যেন অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় না জড়ায়।

পুরো পরিকল্পনার সর্বোচ্চ স্তরে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘গাজা বোর্ড অব পিস’। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক সংস্থা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার স্থিতিশীলতা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং পুনর্গঠনের অর্থায়ন দেখভাল করবে। এর চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অধীনে থাকবে একটি সাত সদস্যের ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ড গাজা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার এজেন্ডা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, সম্ভাব্য অন্য সদস্যদের মধ্যে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রয়েছেন। এর পাশাপাশি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ নামে আরেকটি স্তর পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে।

দীর্ঘ যুদ্ধ ও হামলায় বিপর্যস্ত গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনারও অংশ। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য খুব কম প্রকাশ করা হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, যে এলাকায় নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হবে, সেখানে পুনর্গঠন শুরু করা যাবে। প্রথম পরীক্ষামূলক আবাসন প্রকল্প ২০২৭ সালের শুরুতে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার দাবি, গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রধানত উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বোর্ড অব পিস। হামাস নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার অপেক্ষায় ছিল বলে আগে ওই অর্থ সংগ্রহ শুরু করা হয়নি।

ট্রাম্প সমঝোতাটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ঘোষণা করলেও ইসরাইলের অবস্থান এখনও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার আগেই এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছিলেন, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে অস্ত্র অপসারণ এবং পুরো উপত্যকার সামরিক সক্ষমতা বিলোপকে যেকোনো প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে ইসরাইল। তাদের দাবি, আলোচনায় থাকা প্রস্তাব সেই শর্ত পূরণ করছে না।

দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও বলেছে, হামাস যে নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে, তা ইসরাইলের দাবি পূরণ করে না। এর পরই এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল ট্রাম্পের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বাধা দিলে প্রেসিডেন্ট ‘খুবই হতাশ’ হবেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ইসরাইলকে এমন কিছু করতে বলা হচ্ছে না, যা তারা ট্রাম্পের মূল ২০ দফা পরিকল্পনায় আগে মেনে নেয়নি। হামাস চুক্তি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে ইসরাইল অত্যন্ত সন্দিহান বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও এখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি আসেনি। আলজাজিরা জানিয়েছে, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী হামাস ও অন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো সমঝোতার বিস্তৃত কাঠামো মেনে নিয়েছে। তবে অস্ত্র সমর্পণকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে আরোপ করা কোনো পূর্বশর্ত হিসেবে নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখতে চায় তারা। 

হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আলোচক গাজি হামাদ বলেছেন, নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীও যে পরিকল্পনাটি মেনে নিয়েছে, তা নয়। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে, এমন দাবি অনেকাংশে সঠিক নয়। সামনে এগোনোর আগে বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে।

ফলে ট্রাম্প যে সমঝোতাকে গাজায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ বলছেন, সেটি বাস্তবায়নের পথ এখনও দীর্ঘ। হামাস কীভাবে ও কত দ্রুত অস্ত্র ছাড়বে, ইসরাইল কখন এবং কতটা এলাকা থেকে সেনা সরাবে, আন্তর্জাতিক বাহিনী কত দ্রুত মোতায়েন হবে এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার খুঁটিনাটি এবং মাঠপর্যায়ে দুপক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   নিরস্ত্র  রাজি  হামাস  গাজা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: