নিকোটিনের তীব্র থাবা থেকে মুক্ত হওয়া অতটা সহজ ননা। ধূমপানের মতো একটি কঠিন অভ্যাস ত্যাগ করা যে মুখের কথা নয়, তা সব ধূমপায়ীই একবাক্যে স্বীকার করেন। কিন্তু মনের জোর আর সঠিক পন্থায় যে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক বিশাল দদলানী।
এক সময়ে দিনে যিনি ৪০টিরও বেশি সিগারেট ফুঁকতেন এবং ধূমপান ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করতে পারতেন না, আজ তিনি সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত এক সুস্থ জীবনের অধিকারী। নিজের সুদৃঢ় মনোবলকে পুঁজি করে কীভাবে তিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন এবং ধূমপান ছাড়ার পর তার শরীরে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা তিনি নিজেই শেয়ার করেছেন সবার সঙ্গে।
ধূমপান ছাড়ার পরপরই শরীরে যে চমৎকার পরিবর্তনগুলো আসে
তামাকজাত দ্রব্য চিরতরে বর্জন করার পর প্রথমদিকে কিছু শারীরিক অস্বস্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। তবে এর পরপরই শরীর নিজেই নিজের পুনর্গঠন শুরু করে।
ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গেসঙ্গেই রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এতে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্নায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং হারিয়ে যাওয়া স্বাদ ও গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে নিকোটিন সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ধূমপান ত্যাগের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে ঘন ঘন সর্দি-কাশি এবং অ্যালার্জিজনিত নানা সমস্যার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ১২ সপ্তাহের মধ্যে শরীর সম্পূর্ণভাবে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত হয়। সামান্য সিঁড়ি উঠেই যারা হাঁপিয়ে উঠতেন, তারা এখন অনায়াসেই বেশি পরিশ্রম করতে পারেন এবং শ্বাসের কষ্ট দূর হয়। ধূমপান ছাড়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে ফুসফুস, মুখ ও গলার ক্যানসার, স্ট্রোক এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) মতো মারাত্মক সব রোগের ঝুঁকি বহুগুণ কমে যায়।
ধূমপান ছাড়ার কার্যকরী কিছু উপায়
‘৪ডি’ থেরাপির প্রয়োগ
সিগারেট খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগলে অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র আসক্তি সাধারণত মস্তিষ্কে ৫ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং এরপর নিজে থেকেই কমতে থাকে।
নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় এবং মানসিক উদ্বেগ কমে যায়।
এক গ্লাস ঠান্ডা পানি ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন। এটি সেই মুহূর্তে তামাক সেবনের আকুলতা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়।
মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে পছন্দের গান শুনুন, লেখালেখি করুন বা সামান্য হেঁটে আসুন।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা
প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করলে শরীর থেকে দ্রুত নিকোটিন বের হয়ে যায়, যা আসক্তি কমাতে সাহায্য করে।
সিগারেটের তীব্র ইচ্ছা জাগলে মুখে মৌরি, জোয়ান বা লবঙ্গ রাখতে পারেন।
চা, কফি বা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় প্রায়ই ধূমপানের ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়, তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহ এগুলো এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন নিয়ম করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা এবং বিভিন্ন হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস করলে ধূমপানের আসক্তি তো কমেই, পাশাপাশি ধূমপান ছাড়ার পরবর্তী শারীরিক অস্বস্তিও দূর হয়।
সময়ের আলো/জোই