নষ্ট সুপারিতে ভাগ্য বদল, বাড়ছে আয় ও কর্মসংস্থান

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

একসময় পোকায় খাওয়া, ঝড়ে পড়ে যাওয়া কিংবা পচে নষ্ট হওয়া সুপারি কৃষকের কোনো কাজে আসত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব সুপারি

2026-08-01T18:02:28+00:00
2026-08-01T18:03:18+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
নষ্ট সুপারিতে ভাগ্য বদল, বাড়ছে আয় ও কর্মসংস্থান
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০২ পিএম  আপডেট: ০১.০৮.২০২৬ ৬:০৩ পিএম
নষ্ট সুপারির ব্যবসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। ছবি : সময়ের আলো
একসময় পোকায় খাওয়া, ঝড়ে পড়ে যাওয়া কিংবা পচে নষ্ট হওয়া সুপারি কৃষকের কোনো কাজে আসত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব সুপারি ফেলে দেওয়া হতো। তবে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন নষ্ট সুপারিই কৃষকদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এতে যেমন কৃষিপণ্যের অপচয় কমছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।

সুপারি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পচা বা ঝড়ে পড়া সুপারি ফেলে দেওয়া হলেও বর্তমানে সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি নষ্ট সুপারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মৌসুম শেষে অতিরিক্ত আয় করছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। এসব সুপারি রং, কয়েলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, প্রতিবেশী ভারতেও রফতানি করা হচ্ছে।


ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, ‘প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ টন নষ্ট সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারতে পাঠাই। এতে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়। কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।’

এই ব্যবসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। নষ্ট সুপারি বাছাই, পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে শতাধিক নারী-পুরুষ কাজ করছেন। 

শ্রমিক ফুলমালা বলেন, ‘দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি পাই। এই আয় দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলছে।’

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষিপণ্যের প্রতিটি অংশের অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের লাভ যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে অপচয়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন বলেন, ‘নষ্ট সুপারি সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে, অপচয় কমাচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিপণ্যের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   নষ্ট  সুপারি  আয়  কর্মসংস্থান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: