মাইক্রোপ্লাস্টিক কি সত্যিই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ইএসডিও)-র এক গবেষণায় পাওয়া গেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। দেশে বহুল প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা

2026-08-01T21:56:32+00:00
2026-08-01T21:56:32+00:00
 
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
মাইক্রোপ্লাস্টিক কি সত্যিই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ইএসডিও)-র এক গবেষণায় পাওয়া গেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। দেশে বহুল প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৬টিতেই— অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ টুথপেস্টে রয়েছে প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। 

গড়ে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের এই প্লাস্টিক কণাগুলো প্রসাধন সামগ্রীতে ইচ্ছে করেই ঘর্ষণের সুবিধার্থে দেওয়া হয় অথবা দৈনন্দিন ব্যবহারের বোতল ও ব্যাগ ভেঙে প্রকৃতির সংস্পর্শে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। 

এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণাগুলো আমাদের অজান্তেই খাবার, প্লাস্টিকের বোতলের পানি, প্রক্রিয়াজাত টি-ব্যাগ, প্লাস্টিক বোর্ডে কাটা সবজি, এমনকি বাতাসের ধুলাবালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করছে। কুলি করার পরেও টুথপেস্টের কণা পেটে চলে যাওয়া কিংবা শিশুদের গিলে ফেলার মাধ্যমে এটি সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছায়। 

বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্ত, গর্ভফুল এবং বুকের দুধেও এই অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। মানবদেহে প্রবেশের পর এটি রক্তনালীতে জমা হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, কোষের অকাল মৃত্যু ঘটায়, হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে থাইরয়েড ও প্রজননক্ষমতার ক্ষতি করে এবং অন্ত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বিনষ্ট করে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— মাইক্রোপ্লাস্টিক কি ক্যান্সার সৃষ্টি করে? সরাসরি এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক ও নিশ্চিত কারণ কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত কোনো শ্রেণিবিন্যাস করেননি। তবে এটি মানবদেহে ক্যান্সারের এক উর্বর পটভূমি তৈরি করে। শরীর থেকে এই প্লাস্টিক কণা বের হতে না পেরে টিস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ (ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন) সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সারের প্রধান অনুঘটক। তা ছাড়া প্লাস্টিকের ক্ষতিকর কেমিক্যাল রক্তে মিশে কোষের ডিএনএ বিকৃত করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়, যা কোষকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে সাহায্য করে ক্যান্সারে রূপ দিতে পারে।

এই নীরব ঘাতকের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা, কারণ তাদের শরীরের অর্গানগুলো তখনও বিকাশমান থাকে। ইএসডিও-র তথ্যানুযায়ী, শিশুদের জন্য প্রচলিত ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্ট ও খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা ‘শূন্য’ রাখার দাবি জানিয়েছেন। 


এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বিএসটিআই-কে কসমেটিকসে 'মাইক্রোবিডস' নিষিদ্ধ করার আইনি বাধ্যবাধকতা আনতে হবে। একই সাথে ভোক্তাদের কেনাকাটার সময় পলিইথিলিন বা পলিপ্রোপিলিনযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা, কাঠের কাটিং বোর্ড ব্যবহার এবং কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   মাইক্রোপ্লাস্টিক  ক্যান্সার  ঝুঁকি 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: