বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের নতুন অধ্যায় শুরু হলো জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে। বাংলাদেশের সঙ্গে অবশ্যই এবারই প্রথম কাজ করছেন এমনটা নয়। গেরহার্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের হকির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালে প্রথম আসেন বাংলাদেশ হকি দলের কোচিং পরিচালক হিসেবে। কাজ করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত, ক্লাব ও জাতীয় পর্যায়ে।
২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে আসেন। সবশেষ আবারও জাতীয় হকি দলের কোচ হয়ে ফিরলেন এই জার্মান কোচ। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে জাতীয় দল। প্রথম দিনই আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ইউরোপীয় খেলার শৈলীতে দলকে গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন নবনিযুক্ত এই কোচ।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গেরহার্ড বলেন, হাতে রয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। এত কম সময়ে দলকে বদলে ফেলা কঠিন হলেও তিনি এটিকে ‘মিশন ইম্পসিবল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করার চেষ্টা করব।’
ইউরোপীয় হকির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক হকির গতি ও কৌশল বদলে যাওয়ায় এশিয়ার অনেক দল পিছিয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলো এখন ইউরোপেই অনুশীলন ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা পুরো দলকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলেছিল। সেই প্রস্তুতির ফল হিসেবে তারা ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতে।
গেরহার্ড আরও বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোও ইউরোপে ক্যাম্প করছে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার সেরা খেলোয়াড়রা জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন, যাতে তারা আধুনিক হকির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় দলও জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন ক্যাম্প করবে। সেখানে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ক্যাম্পের শেষ দিকে বর্তমান জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বিপক্ষেও মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গেরহার্ড বলেন, ‘ইউরোপের খেলার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার লক্ষ্য এই ইউরোপীয় শৈলী বাংলাদেশ দলে নিয়ে আসা।আমরা যদি এটি আয়ত্ত করতে পারি, তা হলে এশিয়ান গেমসে এশিয়ার অন্য দলগুলো আমাদের বিপক্ষে খেলতে সমস্যায় পড়বে।’ জাতীয় দলের এই নতুন যাত্রায় দেশের ক্রীড়াপ্রেমী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তাদের বিশ্বাস ইউরোপীয় ধারার এই প্রস্তুতি বাংলাদেশ হকিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
সময়ের আলো/এসএকে