দেশের শুটিং ও আরচারিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর থেকেই এই দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শনিবার (১ আগস্ট) টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুটিং ও আরচারিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে একেবারে শুরু থেকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরির উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরচারি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলা। খেলোয়াড়দের অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে- এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। ‘আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তা হলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, আরচারির উন্নয়নে সরকার আন্তরিক এবং খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে ইতিমধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জন আরচারকে ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে দেশজুড়ে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছর ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শুটিং ও আরচারি অনুশীলনের প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী টঙ্গী আরচারি ট্রেনিং একাডেমিতে চলমান জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচারি টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসএকে