ওজন কমানোর কথা উঠলেই এখন অনেকের প্রথম পছন্দ চিয়া সিড। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এই ছোট্ট বীজটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই দাবি করা হয়, রোজ সকালে চিয়া সিড খেলেই শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দ্রুত কমে যায়। আসলেই কি এটা সত্যি?
সম্প্রতি ফিটনেস কোচ রালস্টন ডিসুজা জানিয়েছেন, শুধু চিয়া সিড খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ফ্যাট কমে যায়- এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং চর্বি কমাতে হলে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ।
অনেকেই ওজন কমানো এবং শরীরের চর্বি কমানোকে একই বিষয় মনে করেন। কিন্তু দুটি ভিন্ন। ওজন কমলে শরীর থেকে শুধু চর্বিই নয়, পানি, পেশি এবং অন্যান্য টিস্যুর পরিমাণও কমতে পারে। অন্যদিকে, ফ্যাট কমানো বলতে শরীরের অতিরিক্ত চর্বির পরিমাণ কমানোকে বোঝায়। তাই সুস্থভাবে ফিট থাকতে চাইলে লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমানো।
রালস্টন ডিসুজার মতে, ‘চিয়া সিড অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ বা ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে, অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা এবং বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।’
তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, চিয়া সিডে ক্যালোরির পরিমাণও কম নয়। প্রতি ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে প্রায় ৫০০ ক্যালোরি থাকতে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিয়া সিড খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালোরি জমার আশঙ্কা থাকে, যা উল্টো ওজন ও চর্বি বাড়ানোর কারণ হতে পারে।
ফিটনেস কোচের মতে, শরীরের চর্বি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করা। অর্থাৎ, প্রতিদিন শরীর যত ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শুধু ক্ষুধা পেলেই বিভিন্ন খাবারে চিয়া সিড মিশিয়ে খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। ফ্যাট কমাতে হলে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে স্থায়ীভাবে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানো সম্ভব নয়।’
সময়ের আলো/মহু