ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দশম শ্রেণীর কারাতে ক্রীড়া বিভাগের ক্যাডেট ইয়াসীন আরাফাত জীমের (ইয়াসার আহমেদ জীম) আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) মো. মাহফুজুল আলম খানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশদ প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান, পিএসসি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ, বি, এম এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মো. মিজানুর রহমান সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি চাইলে যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে।
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্যমতে, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে অনুশীলন শেষে ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসীন। তবে বিকেএসপির মতো একটি সুসংরক্ষিত ও নিরাপত্তাঘেরা ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে এমন ভয়াবহ এবং জীবনঘাতী ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চরম রহস্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য জীমের মরদেহ ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ইয়াসীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের ছেলে। কারাতে নিয়ে দেশ সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই মেধাবী ক্রীড়াবিদের অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারসহ সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। গঠিত তদন্ত কমিটিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর আসল সত্য উন্মোচনসহ বিকেএসপিতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক সুপারিশমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি