ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫ অভিযোগের প্রায় সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনের মতে, অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে শুধু আর্থিক জরিমানা যথেষ্ট হবে না।
শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে ১১৫ অভিযোগের মধ্যে একটি ছাড়া প্রায় সবকটিতেই দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে প্রিমিয়ার লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ক্লাবটিরও আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সিটি বরাবরই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন বার্নস্টেইন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পরে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
টাইমস রেডিওকে বার্নস্টেইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রক্রিয়া ক্লাব ও ইংলিশ ফুটবল—দুই পক্ষের জন্যই অস্বস্তিকর। তাঁর মতে, সম্ভাব্য আপিলের প্রক্রিয়াও বছরের পর বছর চলা উচিত নয়।
বার্নস্টেইন বলেন, ‘আমি শাস্তির বিষয়ে কোনো মত দিতে পারি না। যদি আপিলের পর ১১৫টি অভিযোগেই তারা দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আমার প্রিয় ক্লাবকে খুব কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। শুধু এটুকুই বলব, অর্থ যথেষ্ট নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর চেয়েও কঠোর কিছু করতে হবে।’
তবে সাবেক এই চেয়ারম্যান নিজের পুরোনো ক্লাবের প্রতি আবেগের কথাও জানিয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবে তিনি বলেছেন, ক্লাবটির সাম্প্রতিক সাফল্যের ওপর এমন অভিযোগের ছায়া পড়ায় তিনি হতাশ।
‘আমি ম্যানচেস্টার সিটির একজন সমর্থক এবং ৭০ বছর ধরে এই ক্লাবকে সমর্থন করছি। সাফল্যের এই অসাধারণ সময়ের ওপর এভাবে কালিমা পড়তে দেখা খুবই দুঃখজনক,’ বলেন বার্নস্টেইন।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে শুরু। ওই সময়ের পর ক্লাবটি ইংলিশ ফুটবলে একাধিক বড় শিরোপা জিতেছে। তাই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক শনিবার বলেছেন, ক্লাবটি নিজেদের নির্দোষতা প্রমাণ করতে আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এখনো সম্ভাব্য শাস্তির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফলে সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আপিল ও আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ। চূড়ান্তভাবে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই ঠিক করবে দীর্ঘদিনের এই আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগের পরিণতি।
সময়ের আলো/টিকে