দুদলের র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ১৭ ধাপ। বাংলাদেশ যেখানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে, মালয়েশিয়ার অবস্থান সেখানে ২৫। কাগজে-কলমে তাই দুদলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট। কিন্তু এশিয়ান গেমসে ছোট সংস্করণের টুর্নামেন্টে সেই ব্যবধানই শেষ কথা নয়। ব্যবহৃত উইকেট, আবহাওয়া কিংবা টসের মতো বিষয় বদলে দিতে পারে ম্যাচের চিত্র। তাই র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা মালয়েশিয়াকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় জাপানে এশিয়ান গেমসের ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল। তবে ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই রয়েছে শঙ্কা। জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই বৃষ্টির দাপট দেখছে বাংলাদেশ দল। রোববার ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ম্যাচের কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ নিয়ে সতর্কতার কথা জানিয়েছেন প্রধান সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি পণ্ড হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত না হলে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ। তবে সালাউদ্দিনের চাওয়া পরিষ্কার, কোনো সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে মাঠেই খেলতে চান তারা। এশিয়ান গেমসের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন সালাউদ্দিন। মালয়েশিয়ার ক্রিকেট সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়াতে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি। মালয়েশিয়ার দল ও ক্রিকেট সম্পর্কে আমার ভালোই ধারণা আছে।’
মালয়েশিয়ারও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকার কথা। কারণ দলটির কোচ ডেভ হোয়াটমোর একসময় বাংলাদেশের কোচ ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থান-পতন তার অজানা নয়। এমনকি মাস দুয়েক আগে মালয়েশিয়া ঢাকা এসে সিরিজও খেলেছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ দলের কোচ। বিশেষ করে একই উইকেটে বারবার খেলা হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে টসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে মনে করেন সালাউদ্দিন, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে আসলে আপসেট হতেই পারে।
কারণ একই উইকেটে বারবার খেলা হয়। ফলে অনেক সময় টস একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।’
গত এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশকে সতর্ক করছে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালোই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১১৬ রান করে মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই এবার আগেভাগেই নকআউট পর্ব কিংবা পদকের হিসাব কষতে রাজি নন সালাউদ্দিন। তার কাছে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্বই সমান। আগে থেকেই জয় ধরে না নিয়ে মাঠে পারফর্ম করেই জয় তুলে নিতে চান তারা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটা ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগেই জিতে যাওয়া উচিত না, খেলেই আমাদের জিততে হবে। সেভাবেই আমরা মেন্টালি প্রিপারেশন নিচ্ছি।’
এদিকে এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল খালি হাতে দেশে ফিরেছে। ফলে পুরুষ ক্রিকেট দলের কাছেই এখন স্বর্ণ জয়ের বড় প্রত্যাশা সমর্থকদের। তবে এই চাপকে নেতিবাচকভাবে না দেখে প্রেরণা হিসেবেই নিতে চান সালাউদ্দিন। দলের ভেতরও সেই তাড়না রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘পুরো দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে যে একটা মেডেল আমাদের জিততে হবে। ছেলেদের ওই মোটিভেশনটা আছে এবং আমরাও জানি এটার গুরুত্ব কতটুকু। আমাদের মোটিভেশনের কোনো অভাব নেই, আমরা ইনশাল্লাহ ভালো করব।’
র্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ তাই কাগজে-কলমের শক্তির হিসাব এক পাশে রেখে মাঠের বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। বৃষ্টি, উইকেট কিংবা টস, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দেওয়াই এখন লিটনদের লক্ষ্য।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে