যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে অনেক আশ্রয়প্রার্থীর প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করা হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কিংবা অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগ না থাকা অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও আর বাধ্যতামূলক ইন্টারভিউ নেওয়া হবে না।
এতদিন ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর আশ্রয় কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনে ও নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতেন।
নতুন ব্যবস্থায় ইউএসসিআইএস অনেক আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠাতে পারবে। ফলে আবেদনকারীরা নিজেদের দাবি ব্যাখ্যা করার আগেই বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত ঝুলে থাকা অ্যাসাইলাম মামলা আদালতে স্থানান্তর হতে পারে। এতে দেশ থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয় ব্যবস্থাকে প্রকৃত সুরক্ষার জন্য নয়, বরং সময় বাড়ানো ও কাজের অনুমতি পাওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরাই দ্রুত সুরক্ষা পাবেন এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার কমবে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, সাক্ষাৎকারের সুযোগ বাতিল হলে অনেক প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থী নিজেদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার সুযোগ হারাতে পারেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ। এর ফলে যুদ্ধ, নির্যাতন বা রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে আশ্রয় চাওয়া অনেক মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সময়ের আলো/এমকে