পর্যটন-সমৃদ্ধ উপজেলা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাদেশ

দেশে এই মুহূর্তে প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি হলো মৌলভীবাজার। ছোট বড় মিলিয়ে এ জেলায় প্রায় ৫০টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এ

2026-08-02T20:44:57+00:00
2026-08-02T20:45:35+00:00
 
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
পর্যটন-সমৃদ্ধ উপজেলা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম  আপডেট: ০২.০৮.২০২৬ ৮:৪৫ পিএম
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ছবি : সময়ের আলো
দেশে এই মুহূর্তে প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি হলো মৌলভীবাজার। ছোট বড় মিলিয়ে এ জেলায় প্রায় ৫০টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছেন এখানে। একটি জেলায় একসঙ্গে এত পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল খুবই কম থাকে। এর মধ্যে জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল হচ্ছে প্রধান দুই পর্যটন কেন্দ্রসমৃদ্ধ উপজেলা। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মণিপুরি সম্প্রদায় অধ্যুষিত উপজেলা কমগঞ্জ পর্যটন আকর্ষণে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। দেশি। বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এই উপজেলায়।

কমলগঞ্জের উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি পর্যটন আকর্ষণের একটি হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও পরিচিত। পরিচিতির দিক থেকে সুন্দর বনের পরেই লাউয়াছড়ার অবস্থান। এ উদ্যানটি কেবল পর্যটন স্থানই নয়, এ পার্ক এখন জীবন্ত প্রাকৃতিক গবেষণাগার, যা প্রাণী ও পাখি বিজ্ঞানীদের একটি রাজ্যও বলা যায়। বিখ্যাত পাখি বিশারদ ডেভিড জনসন ও পল থমসন লাউয়াছড়াকে পৃথিবীর অন্যতম উন্মুক্ত চিড়িয়াখানা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।

কমলগঞ্জ উপজেলার অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের বাটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সূর্যের আলোর প্রতিযোগিতার জন্য এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে। একটা সময় এই বন এতই ঘন ছিল যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়ত না। উঁচু নিচু টিলাজুড়ে এ বন বিস্তৃত। বনের ভেতর দিয়ে অনেক পাহাড়ি ছড়া বয়ে গেছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। জীববৈচিত্র্যের দিক দিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সমৃদ্ধতম বনগুলোর একটি। আয়তনে ছোট হলেও এ বন দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। বনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের বন্যপ্রাণী, পাখি এবং কীটপতঙ্গের শব্দ শোনা যায়। 


মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় পাথারিয়া পাহাড় অঞ্চল অবস্থিত। এই পাহাড়েই রয়ে মনোমুগ্ধকর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট ওপর থেকে আছড়ে পড়া জলের স্রোত। এ ছাড়া এই পাহাড়ের বুক জুড়ে রয়েছে আরও অসংখ্য ছোট ছোট ঝরনা। যেগুলোর মধ্যে সন্ধানী, মায়াবন, মায়াকানন অন্যতম। যেই দুর্গম ঝরনাগুলোতে বর্ষার মৌসুমে যাওয়াটা বেশ দুষ্কর। বড় বড় পাথর, ক্ষীণ জলস্রোত আর প্রশান্তিদায়ক সবুজে ঘেরা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে প্রায় সারা বছরই থাকে পর্যটকদের আনাগোনা। মৌলভীবাজার হতে বড়লেখাগামী গাড়ি করে বড়লেখা পৌঁছার আগে কাঁঠালতলী নামক বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও পাথারিয়া বন বিভাগ অবস্থান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা। একটি পর্যটন অঞ্চল হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি পর্যটকদের জন্য সমৃদ্ধ সম্ভার সাজিয়ে রেখেছে। বৃহত্তর সিলেটের ১৪০টি চা বাগানের মধ্যে এই উপজেলাতেই ৪০টি চা বাগান, আশপাশের সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ৬০ এর কম নয়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যেকোনো দিকে বের হলেই চা বাগানের সবুজ হাতছানি। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) শহর থেকে দুই কিমি দূরে। রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলে চমৎকার ফুলের বাগান, রয়েছে বহু বছরের পুরোনো চা গাছ, চা ফ্যাক্টরি, টেস্টিং ল্যাব ইত্যাদি। বিটিআরআই থেকে বের হলেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের আরেক আকর্ষণ নীলকণ্ঠ চা কেবিন। চা শ্রমিক রমেশ রাম গৌড় এখানে বিক্রি করেন পাঁচ, সাত, আট রংয়ের চা। শ্রীমঙ্গল শহরে বেশ কয়েক জায়গায় সাত রঙ্গা চা পাওয়া গেলেও সবচেয়ে ভালো মানেরটা হলো এই নীলকণ্ঠ।


শ্রীমঙ্গল শহরের প্রান্তে অবস্থিত সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায়। ভালুক, হরিণ, বানর, বন মোরগ, অজগর সাপ, বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখি, কথা বলা ময়না, বিভিন্ন রকম বিড়াল। পাখি দিয়ে সাজান ব্যক্তিগত এই চিড়িয়াখানাটি ভালো লাগবে। এখানে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা আর শহর থেকে রিকশা নিয়েই যাওয়া যায়, ২০ টাকা ভাড়া। তা ছাড়া রাস্তার দুই পাশে অজস্র চা বাগান, আপনার পরিবহনের ড্রাইভারকে বলে যেকোন চা বাগানে নেমে যেতে পারেন এবং ইচ্ছেমতো ছবি তুলতে পারেন।

শান্ত প্রকৃতি ও আবহাওয়া। বাঁশ ও ছন দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ঘর। চারপাশে সবুজ গাছ আর পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। মৌলভীবাজার অসংখ্য ইকো রিসোর্টগুলোকে সাজানো হয়েছে এভাবেই। প্রাকৃতিক বিভিন্ন স্থানগুলোর পাশাপাশি পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় বিচ্ছিন্ন পাঁচ তারকা ও ইকো রিসোর্টগুলো সুলভমূল্য থেকে শুরু করে বিলাসবহুল সব রিসোর্ট গড়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ। যার মধ্যে রয়েছে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, লেমন গার্ডেন, বালিশিরা রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্টে, ওয়াটারলিলি, টি হ্যাভেন ও টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, অরণ্য নিবাস ইকো রিসোর্ট অন্যতম। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা শহরের পাশেই রয়েছে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, মুক্তানগর রিসোর্ট ও রাজউটি রিসোর্ট।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   পর্যটন কেন্দ্র  উপজেলা  কমলগঞ্জ  শ্রীমঙ্গল  সময়ের আলো  মৌলভীবাজার 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: