বিনিয়োগের আস্থা ধরে রাখতে সংস্কারই এখন প্রধান পরীক্ষা

সম্পাদকীয়

মতামত

বাংলাদেশ সফর করে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার সফরে ঢাকার অগ্রাধিকার ছিল বাণিজ্য ও

2026-08-03T06:22:18+00:00
2026-08-03T06:22:18+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
মতামত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা
বিনিয়োগের আস্থা ধরে রাখতে সংস্কারই এখন প্রধান পরীক্ষা
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশ সফর করে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার সফরে ঢাকার অগ্রাধিকার ছিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। ওয়াশিংটনের প্রধান আগ্রহ ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা। মার্কিন দূতের বক্তব্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের জন্য ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশ প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থার বার্তাই দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব নতুন করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আমাদের তৈরি পোশাক রফতানির একক বৃহত্তম বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী এই বাজারে প্রায় ৮.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করা হয়েছে। দেশ থেকে রফতানি করা পোশাকের প্রায় ২০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে প্রায় ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়িক নেতার বাংলাদেশ সফরের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এতে ধারণা করা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পারস্পরি সম্পর্কে নিরাপত্তা, মানবিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে আকৃষ্ট করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। উন্নত অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও থাকা দরকার। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জমি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয় আরেকটি বড় প্রতিবন্ধক। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে চলবে না। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সমন্বিতভাবে একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। 

আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশকে সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। কোনো বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়ে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রগণ্য করতে হবে। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে হতে হবে কৌশলী। এ ক্ষেত্রে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ নীতি দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হতে পারে বলে আমরা আশা করতে চাই। কারও সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পর্ক যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত চাপের কারণ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে সাফল্যে রূপ দিতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন করেছে সেটা ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টাকে তখনই সার্থক বলা যাবে যখন তা টেকসই অর্থনৈতিক অর্জনে পরিণত হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারেরও একটি সুযোগ। বিদেশি বিনিয়োগকে উপলক্ষ করে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হবে, এ জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার করা হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বিনিয়োগ  সংস্কার  পরীক্ষা  বাংলাদেশ  যুক্তরাষ্ট্র  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: