বন রক্ষায় চাই কার্যকর নজরদারি

সম্পাদকীয়

মতামত

বান্দরবানের সাত উপজেলায় করাতকল আছে ৮১টি। এর মধ্যে ৩৬টিরই বন বিভাগের লাইসেন্স নেই। গোটা পঞ্চাশ করাতকলের নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র। আবাসিক

2026-09-16T04:53:48+00:00
2026-09-16T04:53:48+00:00
 
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
নিয়ম ভেঙে চলছে করাতকল
বন রক্ষায় চাই কার্যকর নজরদারি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বান্দরবানের সাত উপজেলায় করাতকল আছে ৮১টি। এর মধ্যে ৩৬টিরই বন বিভাগের লাইসেন্স নেই। গোটা পঞ্চাশ করাতকলের নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র। আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার পাশে বছরের পর বছর ধরে চলছে অনেক করাতকল। প্রশ্ন হচ্ছে, এত অনিয়মের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?

সময়ের আলোয় গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বান্দরবানের উজানীপাড়া ও বালাঘাটা এলাকায় জনবসতির কাছেই একাধিক করাতকল চলছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একটি করাতকল। সেখানে দিন-রাত শব্দ হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এমন নয় যে, দেশে করাতকল স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। করাতকল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার সীমানা থেকে কমপক্ষে ২০০ মিটার দূরত্বের বাইরে করাতকল স্থাপন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংরক্ষিত, রক্ষিত ও সরকারি যেকোনো ধরনের বনভূমির সীমানা থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না।

করাতকলের সঙ্গে বন থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার যোগসূত্র রয়েছে। অভিযোগ আছে, পাহাড় ও সংরক্ষিত বন থেকে কেটে আনা গাছ এসব করাতকলে চেরাই হচ্ছে। এই সমস্যা শুধু বান্দরবানেই সীমাবদ্ধ নয়। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মৌলভীবাজারেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ১৯৩টি করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে ১৪২টির। 

জেলার প্রায় ৫৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমির জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৯টি করাতকলের বেশিরভাগই অবৈধভাবে চলছে বলে জানা গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ম্যানগ্রোভ বন থেকে গাছ কেটে করাতকলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

করাতকলের সঙ্গে চোরাই কাঠের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ উদ্বেগজনক। গাছ চেরাই হয়ে যাওয়ার পর সেটি কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। করাতকলের লাইসেন্স আছে কি নেই সেটি যাচাই করলেই সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। করাতকলে কোথা থেকে কোন গাছ আসছে সেটাও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। বন বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে অবৈধ করাতকলের মালিকদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিতে হবে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে নোটিস দেওয়া হবে, অভিযান চালানো হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম করে আসছে এমন করাতকলের বিরুদ্ধে শুধু নোটিস দেওয়া বা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়াই কি যথেষ্ট। বন রক্ষায় সময়মতো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই কাম্য। পরিবেশ অধিদফতর জনবল সংকটের কথা বলেছে। এটা একটা বাস্তব সমস্যা। তবে এই অজুহাতে বছরের পর বছর অবৈধ করাতকল চলতে দেওয়া যায় না। বন রক্ষায় বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদফতরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

আইন মেনে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা হলে তাতে আপত্তি করা চলে না। তবে যেসব করাতকল অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, যেগুলো আইন মানছে না সেগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত সব করাতকল দ্রুত শনাক্ত করে বন্ধ করতে হবে। বৈধ করাতকলে গাছ বা কাঠের উৎস যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের তাদের এই কাজে উদাসীন থাকার সুযোগ নেই।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি  
  বিষয়:   বন রক্ষা  কার্যকর নজরদারি  সম্পাদকীয় 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: