লোহাগাড়ায় ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ব্রীজ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

লোহাগাড়ায় অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার ৪টি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হলেও পরিবেশ বিপর্যয়ের

2026-08-03T10:35:13+00:00
2026-08-03T10:36:08+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
লোহাগাড়ায় ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ব্রীজ
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম  আপডেট: ০৩.০৮.২০২৬ ১০:৩৬ এএম
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে ডলু ব্রীজ। ছবি : সময়ের আলো
লোহাগাড়ায় অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার ৪টি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হলেও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় অন্য কোনো বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু উপজেলার আমিরাবাদ, পুটিবিলা, গৌড়স্থান, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা, আধুনগর, জঙ্গলপদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই শ্যালো মেশিন দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে, সরকার হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় প্রশাসন উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান, চুনতির পানত্রিশা, ফারঙ্গা, সরই, হাসনাভিটা, পহরচান্দা, চরম্বা, আধুনগর, আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন অবৈধ বালু মহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও থামানো যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসিনাভিটা এলাকায় সরই খাল ও ধুইল্লা খাল, চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা ও পানত্রিশা এলাকায় ডলু নদী, আমিরাবাদে টংকাবতী নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। হাসনাভিটার সরই খাল ব্রীজের আশপাশে ১০-১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ব্রীজের দক্ষিণ-পূর্বে মোটা শাহাব উদ্দিন, উত্তর পাশে লম্বা শাহাব উদ্দিন, ইউসুফ ড্রাইভার ও রিয়াদ দীর্ঘদিন যাবত কোনো ধরনের ইজারা ছাড়াই বালু তুলছেন।


অন্যদিকে, লোহাগাড়া-লামা সড়কে চুনতি এমচরহাট এলাকায় ডলু ব্রীজের গোড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রীজের মাঝখানের স্তম্ভের নিচের মাটি সরে গিয়ে ৩০ ফুট পাইলিংয়ের ২০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে গেছে। পুটিবিলা হাসনাভিটার পাশে সরই খালের ব্রীজের ২০ ফুট দূরত্বে শ্যালো মেশিন বসিয়েও দিনরাত তোলা হচ্ছে বালু। ফলে ব্রীজটির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও থমথমিয়া খাল, চরম্বার জামছড়িখাল, সুখছড়ির খাল, টংকাবতীনদী থেকে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু, তা না মেনে উপজেলার পুঁটিবিলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসিনাভিটা এলাকায় ব্রীজের পাশ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি।


স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসভিটা এলাকায় জনবসতি ও ব্রীজের খুব কাছ থেকে সরই খাল ও ধুইল্লা খাল থেকে কমপক্ষে ১০-১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পুটিবিলা বাজার, মসজিদ, ডলু ব্রীজ ও হাসনাভিটা ব্রীজ হুমকির মুখে। যেকোনও সময় ব্রীজ ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

পুটিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পুটিবিলা, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা এলাকায় শতাধিক শ্যালোমেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’ তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ‘ইজারা ছাড়া ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   লোহাগাড়া  ইজারা  বালু  উত্তোলন  হুমকি  ব্রীজ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: