বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানমের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রকে ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ার পর উল্টো পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিনি বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) দেওয়া ওই অভিযোগে শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও কলেজছাত্র মো. শফিকুল ইসলাম মুসা উল্লেখ করেন, গত শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে এলাকায় সন্দেহভাজন মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে আটক করে।
লিখিত অভিযোগে মুসার আরও দাবি, অভিযানের পর ওসি প্রথমে তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলেন। পরে তা কমিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা থানার গেটের সামনে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওসির বডিগার্ড নাহিদ হাসান সুমনের মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের কথা বলে তার ওপর প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, পুলিশকে ইয়াবা দিয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন উপায়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পুরো ঘটনার অডিও কল রেকর্ড, ভিডিও ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন ওই কলেজছাত্র। বর্তমানে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন এবং এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ওসি রোকেয়া খানম বলেন, রোববার বিকেলে ইলিয়াসকে ১৮ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং প্রায় ২৯ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে। মুসার কাছে আমি কোনো ইয়াবা চাইনি, তাকে শুধু আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি। অপরাধী ধরতে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের কৌশল বা ফাঁদ ব্যবহার করতে হয়।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জোই