নওয়াপাড়া থেকে মনিরামপুর যাওয়ার সড়কের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার অংশের অন্তত ১০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জগবাবুর মোড় থেকে ধোপাদী চারাতলা পর্যন্ত সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। উপান্ত না পেয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে নওয়াপাড়া বাজার থেকে মনিরামপুর যাওয়ার পূর্বে সুন্দলী পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, নওয়াপাড়া পৌর সভার ধোপাদী সবুজবাগ, ভাটবিলা, সুন্দলী কুচুটিয়া এলাকায় প্রায় ৫'শ থেকে ৬'শ ফুট সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাজুড়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর অসংখ্য গর্ত তৈরির পাশাপাশি কাঁদা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।
নওয়াপাড়া মনিরামপুর যেতে দেবুর মিলাস নামক স্থানে সব চেয়ে খারাপ অবস্থা। সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে রাস্তা সরু হয়ে যেয়ে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে ঢেউখেলানো আকার ধারণ করেছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে সড়কে চলাচল করতে পথ কম লাগলেও এখন অতিক্রম করতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নিয়মিত যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক চালক জানান, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে। এটি একটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বর্তমানে এটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যানবাহনের মালিক, শ্রমিক নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আবু সুফিয়ান বলেন, এই সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে চাহিদা দেওয়া হয়েছে আশাকরি সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে কিছু অংশ ঢালাই ও পিচের কাজের সংস্কার করা হবে। সুন্দলীর অংশে শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে।
সময়ের আলো/আতা