জুলাইয়ে পুরান ঢাকার আন্দোলনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান সমন্বয়ক ও বর্তমানে জকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নূরনবী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জবি প্রতিনিধি মুশফিক ইমন।
সময়ের আলো : যখন জুলাই আন্দোলনে নামেন, তখনকার দেশের থমথমে পরিস্থিতি বিবেচনায় আপনার মানসিক প্রস্তুতি বা চিন্তাভাবনা কেমন ছিল?
নূরনবী : পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো যেকোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর তাগিদটা ছিল জীবনের চেয়েও বড়। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অধিকার আদায় করব, শেষ পর্যন্ত লড়ব।
জুলাই বিপ্লবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। চূড়ান্ত বিজয়ে আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভৌগোলিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। রাজপথে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে নেমে এসেছিল। তাঁতীবাজার, বংশাল আর পুরান ঢাকাকে জবি শিক্ষার্থীরা লড়াইয়ের একটা শক্ত দুর্গে পরিণত করেছিল।
জুলাইয়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও সরকারের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? তখনকার পরিবেশ ও ভয়-ডর কীভাবে জয় করেছিলেন?
ছাত্রলীগ হামলা করেছে। সামনাসামনি টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। চারপাশে রক্তের দাগ আর চিৎকার। যখন দেখেছি পাশের সহযোদ্ধা আঘাতেও পিছু হটছে না, তখন সবার ভয় কেটে গেল। রক্ত আমাদের ভয় না দেখিয়ে উল্টো সাহসী করে তুলেছিল।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবরটি যখন প্রথম শুনলেন, ঠিক সেই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল? রাজপথে আপনার ও আশপাশের সহযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া কেমন দেখেছেন?
এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হচ্ছিল যেন এক বিশাল দমবন্ধ পরিবেশ থেকে আমরা মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি।
আন্দোলনের সময় আপনার কোনো সহপাঠী বা পরিচিত ছোট ভাইবোনের আহত হওয়ার ঘটনা কি নিজের চোখে দেখেছেন? তখনকার কোনো বিশেষ ঘটনা যা আপনাকে আজও নাড়া দেয়?
হ্যাঁ, চোখের সামনে অনেক সহযোদ্ধাকে রক্তাক্ত হতে দেখেছি। আমারই কয়েকজন ছোট ভাইয়ের গায়ে গুলি লেগেছিল। সেই সময়টা খুবই বেদনাদায়ক ছিল।
আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান এবং আত্মত্যাগকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
জবি শিক্ষার্থীরা সবসময়ই রাজপথের সামনের সারির যোদ্ধা। চরম অভাব-অনটন আর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষার্থীরা কখনো পিছু হটেনি। জবি রক্ত দিতে জানে, মাথা নোয়াতে জানে না - এই আন্দোলন তা আবার প্রমাণ করেছে।
সাধারণ একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন বাংলাদেশ নিয়ে আপনার মূল প্রত্যাশাগুলো কী?
আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে বাক-স্বাধীনতা থাকবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে। আর জবি শিক্ষার্থীদের জন্য একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস, সেশনজটমুক্ত পরিবেশ ও আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান চাই।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি