জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে শিক্ষাঙ্গনে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে আবারও ফিরে এসেছে সংঘাতের চিত্র। এক দিনেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদরাসায় সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এ ছাড়া সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাঙ্গনে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের দিনগুলোর একটি। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় আহত হন দুই পক্ষের নেতাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন।
জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ অনেকে আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের পর শিবির নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসের অদূরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হন ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। আর হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের ভেতরেও হামলা করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর বলেন, ‘দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেরা সংঘর্ষ করেছে। এরপর ন্যাশনাল হাসপাতালে আহতরা ভর্তি হয়েছেন। সেখানেও আরেকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করছে।’ ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক বলেন, ‘ইউনিভার্সিটিতে একটা প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টররা ছিলেন। সেখানে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাওয়া থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এক পর্যায়ে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়; সেটি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর্যায়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘কীভাবে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন করা যায়, আরও বেশি উত্তরোত্তর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানো যায়, সে জন্য ইউজিসির চেয়ারম্যানকে আমাদের এখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।’
তিনি এখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শোনার চেষ্টা করছেন এবং আমাদের সেই সাফল্যতাকে হিংসাবশীভূত হয়ে, সেই ছয় মাস শীতনিদ্রায় যাওয়া ব্যর্থ জকসুর একটা অংশ মূলত মব করার মাধ্যমে তারা তো আসলেও কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে না, বারবার মব করার মাধ্যমে জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে। বারবার শিক্ষার্থীবৃন্দকে তারা প্রতারিত করে। এখন শিক্ষার্থীবৃন্দ সচেতন হয়েছে এবং সচেতনতার কারণেই তারা এদেরকে প্রতিরোধ করেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরেফিন, রুমিসহ আমরা দেখেছি শাহরিয়ার সবার নেতৃত্বে কীভাবে জকসু, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট এবং ইনকিলাব মঞ্চের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। আমি যখন ক্যাম্পাসে গেলাম, আজকে একটা আলোচনা সভা ছিল। সে আলোচনা সভায় আমিও একজন আমন্ত্রিত অতিথি।’
স্থায়ী আবাসনের দাবি জানানোর প্রস্তুতির সময় হামলা হয় দাবি করে তিনি বলেন, এর মাঝখানে (শিবিরের) নূর মোহাম্মদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে ছাত্রদলের কতিপয় গুন্ডারা। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভিসি স্যারকে বলছি, ঠিক আছে স্যার, আমরা এটি দেখছি।
আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওখানে বসে একটা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করছিলাম। আমরা ওখানে সেøাগান দিচ্ছিলাম, কথা বলতেছিলাম, দাবি উত্থাপন করতেছিলাম। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দিতে হবে। একই সঙ্গে আমরা এটিও বলছি যে টিএসসি নিয়ে যা গণ্ডগোল করছেন, টেন্ডার বাণিজ্য করছেন, আপনাদের এটি বন্ধ করতে হবে। এই টেন্ডারখোর, অছাত্র, মাদকাসক্ত এই শিক্ষার্থীদের যারা সন্ত্রাসী আগ্রাসী মনোভাব রাখে, তারা এই সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জকসুর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করেছে।
এদিকে হাসপাতালে সংঘর্ষের সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। তাদের একজন জামাল হোসেন দুপুরের পর বলেন, ভায়রা মেয়ে অসুস্থ। তার ট্রিটমেন্টের জন্য এসেছিলাম। দেখলাম নিচে সংঘর্ষ চলছে। সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ আটকে ছিলাম। এখন বের হয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষ :
রংপুর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারির রেশ না কাটতেই ঢাকা কলেজে সংঘর্ষে জড়ালেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে জড়িয়েছে এমন খবর আসার পরপরই দুই পক্ষ মারামারি শুরু করেন। তাতে ২০ জনের মতো আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিলাদ হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের আজকে ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে একটা কর্মিসভা ছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার সময় আমাদেরকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগত নিয়ে হামলা করে। পরে আমরা অধ্যক্ষের কাছে গেলে তারা ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করে। আমরা তার প্রতিবাদে মিছিল করি। আর এখন ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কাউকে ঢাকা কলেজ দখল করতে দেব না।
মিলাদ হোসেনের ভাষ্য, ঢাকা কলেজের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ করেন। তবে ছাত্রদলকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচর সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, আমাদের আজকে পূর্বঘোষিত শহিদদের জন্য দোয়া মাহফিল ছিল। সেখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরকে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আমাদের অনেকে আহত হইছে। এদিকে বিকাল ৫টার দিকে দেখা যায়, কলেজে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। আর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা যায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
আলিয়া মাদরাসায়ও সংঘর্ষ :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজের পর রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে মাদরাসার সামনে এ সংঘর্ষে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। আহতদের মধ্যে মাদরাসা অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫২), আলিয়া শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন মোমিন (২৫), সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বিকে (২৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষক আলী হাসান হাসপাতালে বলেন, বিকাল ৫টার দিকে সরকারি আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক আহত হন। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষার্থী ও অন্য শিক্ষকরা মিলে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে এখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির রহমান বলেন, বিকালে সানাউল্লাহ ও রাব্বি ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল রড, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। রাব্বির বাম পায়েও গুরুতর জখম হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিছার উদ্দিন রাব্বি বলেন, আমরা ২-৩ জন বন্ধু শিক্ষা বোর্ডের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
এ সময় কয়েকজন এসে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত হই। পরে বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। ধারণা করছি, ওরা সবাই শিবিরের কর্মী।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হলের সিট দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে বিকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কী কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি, তবে সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ :
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চলে এই উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে টাঙানো একটি ব্যানার নিয়ে ‘ছাত্রদলের আপত্তি’কে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি সরানোর দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে ‘লাথি’ মারেন। পরে গাছের ডাল ভেঙে হামলা চালানো হয়। এ সময় শিবির নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম্প দিয়ে মারধরও করা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দফতর সম্পাদক শিবলী সাদিকের অভিযোগ, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তাতে কর্ণপাত না করে হামলা চালায়।
শিবলীর ভাষ্য, ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে মারধর করে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আসলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। তখন ছাত্রদলও চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ শুরু করলে আমরাও প্রতিহত করার চেষ্টা করি।
তবে ছাত্রদলের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানালে তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা ওই ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বলি। এরপরই তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়।
তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তারা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। একটি ব্যানার নিয়ে আপত্তি তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পণ্ড করতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি