কেমন ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় একটি দিন। একদিকে সরকার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, অন্যদিকে

2026-08-05T09:10:22+00:00
2026-08-05T16:22:07+00:00
 
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ফিরে দেখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান
কেমন ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১০ এএম  আপডেট: ০৫.০৮.২০২৬ ৪:২২ পিএম
আন্দোলনের সফল সমাপ্তির পর সংসদ ভবনে জনতার ঢল। ছবি : সময়ের আলো
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় একটি দিন। একদিকে সরকার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি- এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্যে দিনটি শুরু হয়। এর আগে, টানা কয়েকদিন ধরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। সবাই ভাবছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি পদত্যাগ করবেন, নাকি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে?

কর্মসূচির ঘোষণা

৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশজুড়ে মানুষকে ঢাকায় এসে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে সকাল ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী সমাবেশ এবং সারা দেশে গণ-অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও বা নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হলেও সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

৫ আগস্ট রাজপথে জনতার ঢল। ছবি : সময়ের আলো

৫ আগস্ট রাজপথে জনতার ঢল। ছবি : সময়ের আলো


ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা

৫ আগস্ট ভোর থেকেই রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মহাখালী, বনানী, গুলশান, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, রামপুরাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয় এবং ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশের মাইকিংয়ে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এমনকি কারফিউ পাসধারীদেরও বিভিন্ন জায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়। সকাল পর্যন্ত রাজধানীর সড়কগুলো প্রায় ফাঁকাই ছিল।

রাজপথে মানুষের ঢল

সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। পরে তাদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন।

বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও আন্দোলনের গতি থামেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শাহবাগের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।


সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগের পাশের গলিতে শতাধিক মানুষ একত্রিত হন। তাদের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক, মুখে এক দফার স্লোগান।

সে সময় শাহবাগ এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের কঠোর অবস্থান ছিল। সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয় এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদেরও তল্লাশি করা হচ্ছিল। কাউকে সেখানে অবস্থান করতে দেওয়া হচ্ছিল না।

সাড়ে ১১টার পর শাহবাগ ও আশপাশে গুলির শব্দ শোনা যায়। চানখাঁরপুলের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দও ভেসে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

ফুল হাতে ব্যারিকেডের সামনে

দুপুর ১২টার কিছু পর মৎস্য ভবনের দিক থেকে প্রায় ৫০০ মানুষের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে এগিয়ে আসে। মিছিলের সামনে ছিলেন প্রায় ৫০ জন নারী। সেখানে কিশোর থেকে প্রবীণ- সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি ছিল।

ওভারব্রীজের কাছে সেনাবাহিনী মিছিলটি থামানোর চেষ্টা করলে প্রথম সারির আন্দোলনকারীরা সেনাসদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। ঘটনাটি দিনটির অন্যতম আলোচিত দৃশ্যে পরিণত হয়।

এরপর ধীরে ধীরে শাহবাগে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ব্যারিকেড অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা মোড়ে অবস্থান নেন এবং চারপাশ এক দফার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।


নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও মানুষ শাহবাগে যোগ দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এরই মধ্যে সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দ্রুত সংবাদ আসে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। কেউ আবেগে কেঁদে ফেলেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েন, আবার কেউ একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। অনেককে সেনাসদস্যদের সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা যায়।

পরে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হলে খবরটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ বিজয়ের মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হন। শাহবাগ, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি ও আশপাশের এলাকা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

দিনভর কারফিউ, কড়া নিরাপত্তা, ইন্টারনেট বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও রাজধানীর রাজপথে যে জনসমাগম তৈরি হয়েছিল সেদিন, তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। 

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   ৫ আগস্ট  গণ-অভ্যুত্থান  জুলাই  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: