কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি?

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন। সেদিন সারাদেশে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি চরম

2026-08-05T09:30:21+00:00
2026-08-05T09:32:51+00:00
 
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩০ এএম  আপডেট: ০৫.০৮.২০২৬ ৯:৩২ এএম
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনেন সমন্বয়করা। ছবি : সময়ের আলো কোলাজ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন। সেদিন সারাদেশে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচির পথে এগিয়ে যান। প্রথমে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনের সমন্বয়করা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্মসূচিটি একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট পালনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে এই সিদ্ধান্তই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সময় যত গড়াচ্ছিল, বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর আসছিল যে আওয়ামী লীগ ঢাকায় বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে আবারও ইন্টারনেট বন্ধ করে কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর আশঙ্কাও বাড়ছিল। এসব বিবেচনায় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আর অপেক্ষা করলে আন্দোলনের গতি কমে যেতে পারে।’


তিনি জানান, শুরুতে ৬ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল এবং সেই অনুযায়ী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ৪ আগস্ট সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তার মনে হয়, আরও একদিন সময় দিলে সরকার নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে। সে সময় প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলেও রিফাত, কাদের, মাসুদ, মাহিন, বাকেরসহ অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি ৫ আগস্টে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

৪ আগস্ট সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে পরদিনই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেদিন অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন এবং এখনই চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জেলার মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব রাজধানীতে এসে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাক্ষী হতে সবাইকে ঢাকায় যোগ দিতে হবে।

আগস্টের ৫ তারিখে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষ এক কাতারে। ছবি : সময়ের আলো

আগস্টের ৫ তারিখে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষ এক কাতারে। ছবি : সময়ের আলো


একই দিনে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ আন্দোলনকারীদের ঢাকায় এসে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘চারদিক থেকে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হবেন।’

ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যদিও কিছু এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেনাবাহিনীর প্রতি তিনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই ধরনের লিখিত ও ভিডিও বার্তা আন্দোলনের অন্য সমন্বয়করাও প্রচার করেন।

সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘৩ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শক্তি ঢাকাকেন্দ্রিক করার চেষ্টা করছিল। মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সমন্বয়কদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘যদি সরকারকে আরও একদিন সময় দেওয়া হতো, তাহলে রাজধানীতে তারা আরও শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারত। এতে সংঘর্ষ ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আন্দোলনের সফলতার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারত। এই কারণেই দ্রুত মানুষকে ঢাকামুখী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’


তিনি আরও বলেন, “মাঠে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও একই মত দিয়েছিল। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও দ্রুত কর্মসূচি পালনের চাপ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ‘লং মার্চ’ এগিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছিলেন।”

মাহিন সরকারের মতে, ‘তখন আবারও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সমন্বয়কদের আশঙ্কা ছিল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আন্দোলনের নির্দেশনা সারা দেশে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ইন্টারনেট সচল থাকতেই মানুষকে ঢাকার দিকে যাত্রা করতে উৎসাহিত করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘৪ আগস্টের মধ্যে দেশের অধিকাংশ স্থানে আন্দোলনের প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঢাকা। সে কারণেই রাজধানীতে জনসমাগম নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

মাহিন সরকার জানান, এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ তার বইয়েও বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, ডিবি হেফাজত থেকে বের হওয়ার পর তিনি নম্বর পরিবর্তন করায় তা সম্ভব হয়নি।

পরে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে সবাই একমত হন যে, কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার এটাই উপযুক্ত সময়। মাঠে থাকা ছাত্র সংগঠনগুলোর মতামতও একই ছিল। সব দিক বিবেচনা করেই ৪ আগস্ট বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়- ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই অনুষ্ঠিত হবে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   মার্চ টু ঢাকা  কর্মসূচি  জুলাই  গণ-অভ্যুত্থান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: