ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাটি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন প্রতিরোধের এক রক্তাক্ত কেন্দ্রবিন্দু। ১৭ থেকে ২২ জুলাই এবং ৩ থেকে ৫ আগস্ট— এই দুই দফায় আট দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।
আন্দোলনের সূচনা ও ভয়াবহ সংঘাত
১৭ জুলাই : সকাল ১০টা থেকে ছাত্র-জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়া ও কাজলা অংশ দখলে নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে প্রথম দিন থেকেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর হানিফ উড়ালসড়কের টোল প্লাজা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কের অন্তত ৪০টি স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
১৮ জুলাই : যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন সদস্যরা অবস্থান নেন। সারাদিন চলা সংঘর্ষ ও মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকসহ বহু আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ গুলিতে প্রাণ হারান।
৩ থেকে ৫ আগস্ট : ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতা পুনরায় মহাসড়ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বহু আন্দোলনকারী নিহত হন এবং পরবর্তীতে মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শহিদ ও অংশগ্রহণকারী
এই প্রতিরোধ সংগ্রামে সাধারণ শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জুলাই বিপ্লব পরিষদ যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিহত শহিদদের স্মরণে ‘শহিদি ঐক্য চত্বর’ নামে একটি স্মৃতিফলক উন্মোচন করেছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে ৪৮ জন শহিদের নাম স্থান পেয়েছে।
যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকার সড়ক-গলিতে ঝরে যাওয়া তাজা প্রাণের এসব স্মৃতি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।
সময়ের আলো/জোই