চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) মিজানুর রহমানের (৪৭) বিরুদ্ধে তার এক প্রাক্তন ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত এবং প্রকাশ্যে হাত ধরে টানাটানির অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন ছাত্রী শিক্ষক মিজানুর রহানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক সন্তানের জনক শিক্ষক মিজানুর রহমান গত দুই থেকে তিন বছর ধরে নিজের এক ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। ওই ছাত্রী আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি এবং পরে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় একা পেয়ে শিক্ষক মিজানুর রহমান ওই প্রাক্তন ছাত্রীর হাত ধরে টানাটানি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়েটি এইচএসসি পাস করার পর রাজশাহীতে কোচিং করতে যায়। তার আগ থেকেই আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। পরে সে নিজেই জানায় যে আমাকে বিয়ে করবে। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আমাদের বিয়ে হয়। কিছুদিন পর হঠাৎ তালাকের কাগজ হাতে পেয়ে জানতে পারি, সে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমাকে তালাক দিয়েছে। এরপর তার মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। তখন আমি কাবিননামা ও তালাকনামা দেখিয়েছি। ৪ আগস্ট সকালে মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় মেয়েটিকে দেখে শুধু কুশল বিনিময় করেছি। হাত ধরে টানাটানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ ধরনের অভিযোগে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর কাছে অভিভাবকের মতো। তার কাছ থেকে নিরাপত্তা ও নৈতিক শিক্ষা পাওয়ার কথা। যদি কোনো শিক্ষকই এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে অভিভাবক হিসেবে আমরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি সম্পর্কে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটিই অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর ছাত্রীর মাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। পরে তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। প্রয়োজন হলে পুলিশও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, আজ ছাত্রীর মা মৌখিক অভিযোগ করেছেন। এর আগেও তিনি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তখন বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দিয়েছিলেন। এখন পুনরায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই