হস্তান্তরের আগেই নির্মাণাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষেও পানি প্রবেশ করছে। এতে ভবনটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
ঘটনাটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। তবে কাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তরের আগেই ছাদের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি হাসনাত খান তরুণ ও প্রধান শিক্ষক কমল কৃষ্ণ দাস অভিযোগ করেন, তাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এছাড়া নিচতলার পুরোনো জানালা খুলে অন্য কক্ষে স্থাপন করে রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
প্রধান শিক্ষক কমল কৃষ্ণ দাস বলেন, নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে ও সঠিকভাবে না করায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবনের ছাদে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভবন নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় ছাদ ঢালাইয়ের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নতুনচর জাহাপুর এলাকার শামীম হোসেন ও ঠাকুরমল্লিক গ্রামের গোলাম মোর্শেদ তার নির্দেশনা অমান্য করে এবং তাকে না জানিয়ে রাতে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবনটি হস্তান্তরের আগে নির্মাণকাজের মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে শামীম হোসেন ও গোলাম মোর্শেদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, স্কুলের ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাকে জানানোর পর তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
সময়ের আলো/এনএন