রাজধানীর গণভবনে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রিয়জনদের স্মরণ করেন এবং গণহত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে এ দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি বলেন, ‘দুই বছর আগে এই দিনেও আমার আনাস আমাদের সঙ্গেই ছিল। প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহিদ ও ৩০ হাজার আহত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, ভিকটিম পরিবারগুলোর জন্য যেন গণহত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি আমার ছেলের লেখা চিঠিটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানাই।’
শহিদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমার ছেলে শহিদ হয়। সে সময় আমরা অবহেলার শিকার হয়েছিলাম। পরে বিএনপি পরিবার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার ছেলে যে ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ত, সেই কলেজের পাঠাগারটি তার নামে করার দাবি জানাই। আমরা চাই ফ্যাসিবাদের বিচার হোক, যাতে এমন পরিস্থিতি আর কখনো ফিরে না আসে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা তাবাসসুম প্রাপ্তিও। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে আন্দোলনে নামিনি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়েই রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সব নাগরিক সমান মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জাদুঘরের নিচতলায় তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে বছরের পর বছর নিপীড়ন চালিয়ে একটি শাসনব্যবস্থা মাফিয়াতন্ত্রে রূপ নেয়। পাশাপাশি গত ১৬ বছরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিরোধ ও সংগ্রামের ইতিহাসও সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। সেই আন্দোলনের স্মৃতি ও শহিদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে