লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় 'ভুয়া জুলাই যোদ্ধা' আখ্যা দিয়ে আকরাম হোসেন জিশান নামের এক যুবককে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেন এক যুবশক্তি নেতা।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে বক্তব্য দিতে স্টেজে ওঠেন আকরাম হোসেন জিশান নামের এক যুবক। বক্তব্য দিতে গেলে জিশানকে বাধা দেওয়া হয়। জেলা এনসিপির যুবশক্তির নেতা জিশানকে 'ভুয়া জুলাই যোদ্ধা' আখ্যা দিয়ে তিনি আন্দোলনে ছিলেন না বলে দাবি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় আন্দোলন চলাকালে এক চোখ হারানো স্থানীয় যোদ্ধা মো. পারাবিসহ উপস্থিত প্রায় ১২ জন আহত যোদ্ধা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। পারাবির আবেগঘন স্মৃতিচারণে হলরুমে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সভায় কমলনগরের একমাত্র শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাহাত উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন, রামগতি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ডা. মো. শামসুল আলম এবং কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, জামায়াতে ইসলামী কমলনগর শাখার সভাপতি আবুল খায়ের এবং গণঅধিকার পরিষদের কমলনগর উপজেলা সভাপতি সোলেমান চৌধুরী।
সমাপনী বক্তব্যে ইউএনও রাহাত উজ জামান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তরুণ প্রজন্মের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আমরা সর্বদা শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক, ফুল ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/আতা