এখন পর্যন্ত সূর্যের পৃষ্ঠের সবচেয়ে উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এসব ছবিতে সূর্যের বাইরের স্তরে পালকের মতো ঢেউখেলানো অদ্ভুত নকশা দেখা গেছে, যা আগে কখনো এত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ছবিগুলো তোলা হয়েছে। সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকানো বিপজ্জনক হলেও অত্যাধুনিক এই সৌর টেলিস্কোপের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা নিরাপদে সূর্যের জ্বলন্ত পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।
গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেলিস্কোপটির সক্ষমতা পরীক্ষা ও সূক্ষ্ম সমন্বয় করা। তবে ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পান, সূর্যের উজ্জ্বল বাইরের স্তরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত চিত্র ধরা পড়েছে।
ছবিতে সূর্যের পৃষ্ঠজুড়ে পালকের মতো ঢেউখেলানো নকশা দেখা যায়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌর পদার্থবিদ রুইঝু চেন, যিনি এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না, বলেন, দৃশ্যটি বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের দ্য স্টারি নাইট–এর ঘূর্ণায়মান আকাশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
গবেষকদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠে চৌম্বকীয় প্লাজমার বিভিন্ন স্তর ভিন্ন গতিতে একে অপরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে এই অস্থিতিশীল ঢেউ সৃষ্টি হয়। পানির ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে যেমন ঢেউ তৈরি হয়, ঘটনাটি অনেকটা তেমন।
গবেষণার সহলেখক ও ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির বিজ্ঞানী ফ্রিডরিখ ভোগার বলেন, পৃথিবী, বৃহস্পতি ও শনির মতো গ্রহে এ ধরনের প্রবাহগত অস্থিতিশীলতা আগে দেখা গেলেও সূর্যের পৃষ্ঠে এত সূক্ষ্মভাবে এটি এবারই প্রথম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার–এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা গেলে করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই) নামে পরিচিত শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সহজ হবে। এসব বিস্ফোরণ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে সৌরঝড় সৃষ্টি হতে পারে, যা জিপিএস, স্যাটেলাইট ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে আকাশে সৃষ্টি হতে পারে দৃষ্টিনন্দন মেরুজ্যোতি (অরোরা)।
সময়ের আলো/কেএইচ