কণ্ঠনির্ভর সহকারী ‘সিরি’কে নতুন করে সাজিয়েছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। নতুন সংস্করণের সিরি শুধু ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তরই দেবে না, বরং ডিভাইসের পর্দায় থাকা তথ্য বুঝে অ্যাপের বিভিন্ন কাজ সরাসরি সম্পন্ন করতে পারবে।
ব্যবহারকারীর বার্তা, ক্যালেন্ডারসহ নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুবিধাও থাকছে এতে।
সিরির প্রাথমিক ধারণা তৈরি করেছিলেন ড্যাগ কিটলস, অ্যাডাম শেয়ার এবং টম গ্রুবার। ২০০৭ সালে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের এই যাত্রার শুরু। তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু সার্চ ইঞ্জিনের মতো তথ্য খোঁজা নয়, ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী সরাসরি কাজ করে দেওয়া— যাকে অ্যাডাম শেয়ার অভিহিত করেছিলেন ‘ডু ইঞ্জিন’ হিসেবে। ২০১০ সালে অ্যাপল ২০ কোটি ডলারের বিনিময়ে সিরি অধিগ্রহণ করে এবং ২০১১ সালে আইফোন ৪এস-এর মাধ্যমে এটি উন্মোচন করে। তবে এতদিন অ্যালার্ম দেওয়া, গান চালানো বা সহজ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমিত ছিল এর ব্যবহার।
পরবর্তী আইওএস আপডেটের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের উপযোগী করে সিরির এই নতুন সংস্করণ আনা হচ্ছে। এখন সিরি আইফোনের পর্দায় থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। সিএনএনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, নতুন সিরি কোনো মেসেজ থেকে দাঁতের ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট খুঁজে বের করা, বন্ধুর বার্তা থেকে নির্দিষ্ট ব্যান্ডের তথ্য সংগ্রহ করা কিংবা ইনস্টাগ্রামের রেসিপি পরবর্তীতে দেখার জন্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য অ্যাপল এতে ‘প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যেসব কাজ আইফোনে সরাসরি প্রসেস করা সম্ভব নয়, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট পরিমাণ তথ্য অ্যাপলের সুরক্ষিত সার্ভারে পাঠানো হবে।
তবে এই রূপান্তরের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সিরির মাধ্যমে কেনাকাটা বা হোটেল বুকিংয়ের মতো কাজগুলো সরাসরি হতে থাকলে অনেক অ্যাপের ব্যবহার কমে যেতে পারে। সিরির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যাগ কিটলসের মতে, এতে অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে নতুন এক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। কারণ কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই চাইবে না তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হোক।
১৫ বছর আগে সিরি নিয়ে যে ধারণার জন্ম হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এবার এক ধাপ এগিয়েছে অ্যাপল। এআই প্রযুক্তিতে ভর করে অ্যাপলের এই পুরোনো স্বপ্ন বাস্তবে কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/জেডি