যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের সঙ্গে

2026-08-06T17:34:37+00:00
2026-08-06T17:34:37+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম 
ইরানের তেহরানের আজাদি স্কয়ারে প্রদর্শিত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে এবং এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য বাড়াতে ইরান এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পরই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে তেহরান। ওই সময় ইরান বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানান।

একজন জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের ভাষ্য, আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরান শুধু মার্কিন স্বার্থ নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতেও পাল্টা আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই সংকট এড়ানোর সর্বোত্তম পথ।  


রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এক উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট— মার্কিন হামলার জবাবে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন অবকাঠামো ও তেলক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। 

এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। তিনি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। 

একটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব মনে করে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চলে আরও ধ্বংসযজ্ঞ হবে। তবে একই সঙ্গে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তারা সামরিকভাবে জবাব দেবে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়েছে। এসব দেশও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে নতুন সংঘাত এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। 

একজন ইরানি কর্মকর্তার দাবি, তেহরানের লক্ষ্য পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে— এমন বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ তৈরি করা। 

তবে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত থেকে পাওয়া গেছে। ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  ইরান  হামলা  উপসাগরীয় দেশ 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: