রাজবাড়ীতে পৃথক অভিযানে একটি বিরল বিদেশি স্টার্লিং সাবমেশিনগান, একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩৪ রাউন্ড তাজা গুলিসহ দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃত হলো, রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে মো. মোমিন মোল্লা (৪০) ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের বাবু বিশ্বাসের ছেলে হাসান আলী বিশ্বাস। তাদের সাথে নিষিদ্ধ সর্বহারা পার্টি মঞ্জু-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মহিষখোলা মোল্লাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি বিদেশি তৈরি স্টার্লিং সাবমেশিনগান, দুটি ম্যাগাজিন, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ মো. মোমিন মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক জানান, মোমিন মোল্লা সৌদি আরবপ্রবাসী। প্রায় এক মাস আগে তিনি দেশে এসেছিলেন এবং আগামী ১৩ আগস্ট তার আবার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্টার্লিং সাবমেশিনগানটি অত্যন্ত বিরল (রেয়ার) ধরনের অস্ত্র বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
একই দিন রাত সোয়া ১০টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের জলিল মেম্বারের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসান আলী বিশ্বাস নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুইজনের সর্বহারা পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হাসান আলী বিশ্বাস সর্বহারা পার্টির মঞ্জু-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। ওই গ্রুপের নেতা মঞ্জু-জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস, ব্যবহার এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে গ্রেফতারদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে গ্রেফতার দুইজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা