ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্নে দেশ ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচরের যুবক ইকবাল হোসেন (২৬)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। মুক্তিপণ হিসেবে বিপুল টাকা দেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি বলে দাবি স্বজনদের। নিহত ইকবাল শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতালেব মাতবরের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দালাল সাগরের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করেন ইকবাল। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৭ দিন রাখার পর পাঠানো হয় মিশরে। পরে নেওয়া হয় লিবিয়ায়।
স্বজনদের অভিযোগ, শুরুতে ১৭ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও নেপালে নেওয়ার পর চাপ সৃষ্টি করে পুরো ২২ লাখ টাকা আদায় করে নেয় দালাল চক্র।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় পাঁচ মাস পর ইকবালকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন। পরে একটি মাফিয়া চক্র তাকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিভিন্নভাবে ১৪ লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠানোর পর তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর আবার ইতালি পাঠানোর কথা বলে দালাল সাগর আরও ৬ লাখ টাকা নেয়। চলতি বছরের ১ জুলাই টাকা দেওয়ার পরও ইকবালকে ইতালি পাঠানো হয়নি। বরং আবারও তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়। ওই চক্র পরে তার পরিবারের কাছে আরও ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়।
পরিবারের দাবি, নির্ধারিত সময়ে টাকা দিতে না পারায় মাফিয়া চক্র ইকবালকে হত্যা করেছে। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ভুক্তভোগী ফোনে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। তারা আরও জানান, ইকবালের জানাজা পড়ানো হয়েছে। তবে তার মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইকবালের পরিবার এ ঘটনায় জড়িত দালাল চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ রুট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইকবাল ছিলেন হাসিখুশি ও ভদ্র স্বভাবের একজন তরুণ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সময়ের আলো/জোই