মাসের শুরুতেই বেতনের টাকা শেষ? জেনে নিন সঞ্চয় বাড়ানোর উপায়

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবী—মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল, খাবার ও যাতায়াতের মতো নানা খরচ সামলাতে গিয়ে অনেকেই পড়েন

2026-08-07T12:31:24+00:00
2026-08-07T12:31:24+00:00
 
  শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
মাসের শুরুতেই বেতনের টাকা শেষ? জেনে নিন সঞ্চয় বাড়ানোর উপায়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম 
প্রতীকী ছবি
সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবী—মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল, খাবার ও যাতায়াতের মতো নানা খরচ সামলাতে গিয়ে অনেকেই পড়েন বিপাকে। মাস শেষ হওয়ার আগেই বেতনের বড় অংশ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন বেতনের বেশিরভাগটাই চলে যায় আগের মাসের ধারদেনা শোধ করতে। ফলে মাস শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে বাড়ে মানসিক দুশ্চিন্তা। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল অনুসরণ করলে সহজেই ব্যয়ের তালিকা ছোট করা এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। 

বাজেট তৈরি করুন

সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো একটি সুনির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা। মাস শুরু হওয়ার আগেই আয়ের সমস্ত উৎস এবং সম্ভাব্য খরচের একটি নিখুঁত তালিকা বানিয়ে ফেলুন। বাড়িভাড়ার মতো নির্দিষ্ট খরচের পাশাপাশি বাইরে খাওয়া বা বিনোদনের মতো পরিবর্তনশীল ব্যয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করুন। এতে কোন খাতে খরচ ছাঁটাই করা সম্ভব এবং প্রতি মাসে বাস্তবসম্মত উপায়ে ঠিক কত টাকা বাঁচানো যাবে, তা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক করলে আর্থিক পরিকল্পনা কঠোরভাবে মেনে চলা সহজ হয়। বাড়ি কেনার জন্য অগ্রিম জমানো, কোনো স্বপ্নের দেশ ভ্রমণ কিংবা অবসর জীবনের নিরাপত্তা— লক্ষ্য যাই হোক না কেন, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে অর্থের অগ্রাধিকার নির্ধারণ সহজ হয়। এতে সঞ্চয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি আরও অর্থবহ ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে ওঠে।

আলাদা সঞ্চয়ী হিসাব খুলুন

দৈনন্দিন খরচের টাকার সঙ্গে সঞ্চয়ের টাকা যেন মিশে না যায়, সেজন্য একটি পৃথক সঞ্চয়ী হিসাব বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। এমন হিসাব বা অ্যাকাউন্ট বেছে নিন যেখানে তুলনামূলক বেশি মুনাফা বা সুদ পাওয়া যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ ফি কম থাকে। আলাদা হিসাবে টাকা জমালে অপ্রয়োজনীয় খরচ করার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায় এবং ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়।

‘আগে নিজেকে পরিশোধ করুন’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন

প্রতি মাসে আলাদা করে টাকা জমানোর কথা মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে এই প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় করে দিতে পারেন। বেতন পাওয়ার পরপরই মূল অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়ী হিসাবে ট্রান্সফার হওয়ার ব্যবস্থা করুন। অর্থ ব্যবস্থাপনার ভাষায় একে ‘আগে নিজেকে পরিশোধ করুন’ বা ‘পে ইউরসেলফ ফার্স্ট’ পদ্ধতি বলা হয়। এতে মাস শেষে বাঁচা টাকা দিয়ে সঞ্চয় করার পরিবর্তে বেতন পাওয়ার মুহূর্তেই সঞ্চয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। 

খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখুন

আপনার কষ্টার্জিত অর্থ ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার ওপর নিয়মিত কড়া নজর রাখুন। এজন্য বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বাজেট ট্র্যাকিং অ্যাপ অথবা সাধারণ স্প্রেডশিট ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিটি ছোট-বড় কেনাকাটা এবং বিল পরিশোধের হিসাব লিখে রাখলে সহজেই অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত খরচগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেই পকেট ফাঁকা করা খরচগুলো বন্ধ করে সেই অর্থ সঞ্চয়ে যুক্ত করা যায়।

মাসিক বিল ও ইউটিলিটি খরচ কমান

প্রতি মাসের বিভিন্ন সেবামূলক বিল পর্যালোচনা করে যেখানে সম্ভব খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট, ক্যাবল টিভি কিংবা মোবাইল ফোনের মতো মাসিক সেবার ক্ষেত্রে কম খরচের সাশ্রয়ী প্যাকেজ বেছে নিন বা সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে কথা বলুন। এছাড়া বাড়িতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের মাত্রা নিয়মিত মনিটর করুন। প্রয়োজনে শক্তি-সাশ্রয়ী বা এনার্জি সেভিং অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার করেও মাসিক বিলের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বাইরে খাওয়া বাদ দিয়ে বাসায় রান্না করা খাবার খান

রেস্তোরাঁ বা বাইরে খাওয়ার পেছনে প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের অর্থ অপচয় হয়। এর পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতি সপ্তাহের খাবারের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা বা মেনু তৈরি করে সেই অনুযায়ী বাজারের ফর্দ করুন এবং কেনাকাটা সারুন। একসঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণে খাবার রান্না করে রাখলে সময় ও অর্থ—দুটিই সাশ্রয় হয়, পাশাপাশি ঘরের খাবার স্বাস্থ্যের জন্যও বেশি উপকারী।

গণপরিবহন ব্যবহার করুন

অফিস বা দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার বা বাইকের বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহন ব্যবহার করলে জ্বালানি খরচ, গাড়ির মেইনটেন্যান্স ও পার্কিংয়ের বাড়তি ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। প্রতিদিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের খরচ এবং মাসিক গণপরিবহনের ভাড়ার একটি তুলনামূলক হিসাব করে দেখুন। আপনার জীবনযাত্রা ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য কোনটি বেশি সাশ্রয়ী, তা সহজেই বুঝতে পারবেন।


হিসাব করে কেনাকাটা করুন 

প্রয়োজন ছাড়া বা হঠাৎ শপিং মলে গিয়ে হুটহাট কেনাকাটা করা বাজেট বানচাল করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই যেকোনো শপিংয়ে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি চেক-লিস্ট বা তালিকা তৈরি করুন এবং কেবল সেই তালিকা অনুযায়ীই কেনাকাটা করুন। বড় বা দামি কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ভেবে দেখুন। এতে আবেগের বশে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার প্রবণতা কমবে। এছাড়া অনলাইনে কেনাকাটার সময় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দাম যাচাই করে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন।

উচ্চ সুদের ঋণ দ্রুত পরিশোধ করুন

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া কিংবা কোনো ধরনের স্বল্পমেয়াদি উচ্চ সুদের ঋণ থাকলে তা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন। এ ধরনের ঋণের বিপরীতে সুদের পরিমাণ খুব দ্রুত বাড়তে থাকে, যা আপনার সঞ্চয় করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই হাতে কিছু অতিরিক্ত অর্থ এলেই তা দিয়ে উচ্চ সুদের দেনা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। এতে অতিরিক্ত সুদ দেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং খুব দ্রুতই সঞ্চয়ের জন্য পর্যাপ্ত হাতখরচ বা মূলধন হাতে পেয়ে যাবেন।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   মাস  বেতন  টাকা  সঞ্চয় বাড়ানো  উপায় 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: