একসময় নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের জন্য বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিতজনই ছিলেন ভরসা। পরে ডেটিং অ্যাপ সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নেয়। ছবি দেখে পছন্দ, কথোপকথন, তারপর দেখা- সবকিছুই চলে আসে কয়েকটি ক্লিকের মধ্যে। তবে অনেকেই এখন অনলাইন ডেটিংয়ে ক্লান্ত। এই ক্লান্তির মধ্যেই জনপ্রিয় হচ্ছে ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’। এখানে কোনো বন্ধু কয়েক মিনিটের ছোট উপস্থাপনার মাধ্যমে কাউকে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বন্ধুটি বলেন তার স্বভাব, পছন্দ, রসবোধ কিংবা মূল্যবোধ সম্পর্কে।
সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিনিটের এমন পরিচয়পর্বের পর উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ পান। অনলাইন প্রোফাইলের ছবি বা কয়েক লাইনের পরিচিতির বদলে এখানে একজন মানুষকে তার কাছের বন্ধুর চোখ দিয়ে জানার সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ থাকায় সরাসরি পরিচয়ের চাপও তুলনামূলক কম হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ৫০টিরও বেশি শহর এবং বিশ্বের ১০টি দেশে এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে পড়েছে বলে দ্য নিউজ অ্যান্ড অবজারভার-এর প্রতিবেদনের তথ্য জানিয়েছে। অনেক আয়োজন হচ্ছে বার বা সামাজিক আড্ডার জায়গায়।
এর পেছনে ডেটিং অ্যাপ নিয়ে মানুষের বিরক্তিও একটি কারণ। দ্য গার্ডিয়ান, অফকমের ২০২৪ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি ডেটিং অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা এক বছরে ১৬ শতাংশ কমেছে।
মনোবিশেষজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পুনর্বাসন পরামর্শক সোনাল খাঙ্গারোটের মতে, দীর্ঘদিন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারে বারবার সোয়াইপ করা, অর্থহীন কথোপকথনে সময় দেওয়া, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নিজেকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চাপ অনেকের জন্য মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে পরিবার ও সামাজিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা এবং অপর ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান কি না- এসব অনিশ্চয়তাও যুক্ত হতে পারে।
বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের ক্ষেত্রে শুরুতেই কিছুটা সামাজিক আস্থা থাকে। দলগত পরিবেশে দেখা হওয়ার কারণে একান্তে মুখোমুখি হওয়ার চাপও কমে। ফলে একজনের কথা বলার ধরন, রসবোধ, আচরণ ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাভাবিকতাও বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়।
তবে বন্ধুর সুপারিশ মানেই সম্পর্ক সফল হবে, এমন নয়। অতিরিক্ত প্রশংসা থেকে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। পরিচয়টি ভালোভাবে এগোতে না পারলে বন্ধুও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। একই সামাজিক পরিসরের হওয়ায় কেউ কেউ নিজের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা করতে পারেন।
সোনাল খাঙ্গারোটের মতে, ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ মূলত কথোপকথনের দরজা খুলে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। সম্পর্কের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত তৈরি হয় খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান, মূল্যবোধের সামঞ্জস্য এবং সময় নিয়ে একে অপরকে বোঝার মাধ্যমে।
সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সময়ের আলো/মহু